ফ্রান্‌ৎস্‌ কাফকা : নিঃসঙ্গতার শিল্পী

বুধবার , ৩ জুলাই, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
34

শিল্প সৌকর্যের স্বাতন্ত্রে অনন্য এক কথাশিল্পী ফ্রান্‌ৎস্‌ কাফকা। বিশ শতকের প্রথম ভাগে বিশ্ব সাহিত্যের অঙ্গনে ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব হয়েছিল এই সাহিত্যিকের। প্রধানত ছোটগল্প ও উপন্যাস রচনা করে অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী কথা সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন কাফকা। আজ তাঁর ১৩৬তম জন্মবার্ষিকী।
ফ্রান্‌ৎস্‌ কাফকার জন্ম তদানীন্তন চেকোস্লোভাকিয়ার প্রাগে, ১৮৮৩ সালের ৩ জুলাই। জন্মসূত্রে চেক হলেও তাঁর মাতৃভাষা ছিল জার্মান এবং এ ভাষাতেই তিনি সাহিত্য রচনা করেছেন। কাফকা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শাস্ত্রে। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা বীমা কোম্পানিতে। অবসরে সাহিত্য চর্চা করতেন। পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে বাবা, ছোট বোন ও বন্ধুদের কাছে তিনি প্রচুর চিঠি লিখতেন। বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সুখময় ছিল না। ব্যক্তিজীবনে কিছুটা অসুখী ছিলেন কাফকা। তাঁর রচনায় এর প্রচ্ছন্ন প্রভাব পড়েছে কখনো কখনো। প্রথাগত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়, যেমন প্রেম, সংসার জীবন – এসবের মধ্য দিয়ে গেলেও পরিপূর্ণভাবে তিনি ছিলেন শিল্প-নিমগ্ন মানুষ। স্বল্প পরিসর জীবনে কাফকা লিখেছেন বেশ কিছু উপন্যাস ও ছোটগল্প। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘দ্য মেটামরফোসিস’, ‘দ্য ট্রায়াল’, ‘দ্য জাজমেন্ট’, ‘দ্য কাসেল’, ‘কনটেমপ্লেশন’, ‘আ হাঙ্গার আর্টিস্ট’, ‘লেটারস টু ফেলিস’ প্রভৃতি। তাঁর সৃষ্টির অনুষঙ্গ হয়েছে মানবিক জীবনের বিচিত্র টানাপোড়েন, শারীরিক ও মানসিক সংঘাত, বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের দ্বন্দ্ব – বলা চলে, কাফকার সৃষ্টি আধুনিক মধ্যবিত্ত সমাজের সার্থক প্রতিচ্ছবি। রূপকে, উপমায়, ভাষা সৌকর্যে নিয়তই তিনি নিজেকে সৃজন করেছেন। কাফকার কিছু কিছু গল্পে প্রাণীর নানা রূপান্তরের বিষয়টি দেখা যায়। কোথাও দেখা মেলে উপকথার। এসব মূলত রূপকের মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্ম প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের নানা অসঙ্গতির ইঙ্গিতবহ। যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯২৪ সালের ৩ জুন কাফকা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অধিকাংশ রচনা প্রকাশিত হয় মৃত্যুর পর। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সুহৃদ ম্যাকস ব্রড গ্রন্থগুলো প্রকাশ করে বিশ্বসভায় কাফকার পরিচয় ঘটিয়ে দেন।

x