ফুলের সৌরভের মধ্যে চলে পাঠদান

মুন্সিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
40

ক্যাম্পাসে জুড়ে সাজানো গুছানো বাগানের হরেক রকম ফুলের সৌরভ, পাশাপাশি থাকা তিনটি পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিনন্দন একতলা পাকা ভবনের মধ্যখানে দণ্ডায়মান একটি লম্বা ধাতব পদার্থের অগ্রভাবে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা। ভবনের সামনে ও উত্তর পাশে থাকা দৃষ্টিনন্দন শহীদ বেদির চারিপাশে সারি সারি পাতাবাহারের ডিম্বাকৃতির গাছে গাছে সাদা সাদা ফুলে পাপড়িতে উড়ন্ত প্রজাপতির বিচরণ। ভবন অভ্যন্তরে শিশু কিশোর শিক্ষার্থীদের চলছে পাঠ দান। একটি আলাদা কক্ষে খেলনা সহকারে কোমলপতি শিশু শিক্ষার্থীদের ছড়া কবিতার সুরে পাঠে মনোযোগ আকর্ষণে চেষ্টায় এক নারী শিক্ষক। অন্যান্য শ্রেণি কক্ষে শিক্ষকদের পাঠ দানের প্রতি মনোযোগী শিক্ষার্থীরা। এমন একটি ব্যতিক্রমী বিদ্যাপীঠ দেখা গেছে রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নে।
মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত এই বিদ্যালয়টি রাউজানের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃত, ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেয়া ব্যবসায়ী আলমগীর কবির চৌধুরী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে বিভাগীয়ভাবে পেয়েছেন দুইবার শ্রেষ্ঠত্বের সনদ। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠত্বে প্রতিযোগিতায় হয়েছেন দ্বিতীয়। তার সাথে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে আছেন মাহাবুবুল আলম, এ্যানি দাশ গুপ্ত, মোহাম্মদ হোসেন,জাকির হোসেন, খাইরুন নেছা,সাইদুর রহমান, খালেদা বেগম,মুকুল রাণী দেবী, শাকেরা বেগম। সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি বললেন মুন্সিপাড়া বিদ্যালয়ের এই বিশেষ পরিবর্তন আসে সভাপতি হিসাবে আলমগীর কবির চৌধুরী আসার পর থেকে। সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা আলমগীর কবির বলেছেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। নেপথ্যে থেকে কাজে সহায়তা ও পরামর্শ দিয়েছেন এলাকার চেয়ারম্যান প্রিয়োতোষ চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ায় সমান পারদর্শী। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্টে আছে তাদের শিক্ষার্থীদের শিরোপা জয়ের রেকর্ড। বিদ্যালয়ের পাশে প্রতিষ্ঠিত শহীদ বেদি এখন শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ প্রেমের পাঠশালা। এখানে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সঙ্গীত গায়। বুকে হাত রেখে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষায় শপথ নেয়।
জানা যায়, ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি জন্য জায়গা দান করেছিলেন এলাকার শিক্ষানুরাগী মরহুম ছুপিয়া বেগম চৌধুরী, নিশী চন্দ্র দাশ, জান মিয়া সারাং,মোহাম্মদ একরামুল হক, মোহাম্মদ ইউছুপ জালাল,মোহাম্মদ আলী, মাষ্টার সামশু মিয়া, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এর আগে বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন মরহুম আবুল হোসেন, আলহাজ্ব মোহাম্মদ একরামুল হক, আলহাজ্ব মোহাম্মদ হারুন, আলহাজ্ব ওয়াহিদ বিন হোসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেছেন মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ ওই বিদ্যালয়ে। পড়া লেখার মান ভাল। তিনি জানান সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ে একটি অভিভাবক সমাবেশে এসেছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন। তিনি বিদ্যালয়ের ভিতরে বাইরে পরিবেশ দেখে হয়েছিলেন মুগ্ধ। বিদ্যালয়টির এমন পরিবেশ দেখে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের উপহার। সেগুলো ইতিপূর্বে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

x