‘ফুরইন মারা’ ছড়া খাল দখলের চেষ্টা অব্যাহত

চকরিয়ার সাত ইউনিয়নের কৃষকের মাঝে আতঙ্ক

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

সোমবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়নের চাষাবাদের জন্য মিঠাপানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ‘ফুরইন মারা’ নামের একটি প্রবাহমান খালের গতিপথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বাড়ি লাগোয়া গবাদি পশুর খামার গড়ে তোলার পর বর্জ্য দ্বারা প্রবাহমান এই খালটির বিশাল অংশ ভরাট করা হয়।
এরপর স্থায়ীভাবে ওই খাল দখলে নিয়ে সেখানে স্থাপনা তৈরির জন্য এস্কেভেটর দ্বারা মাটি কেটে ওই স্থানে ফেলে ভিটায় পরিণত করার বেশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সম্প্রতি এই খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন সরজমিন গিয়ে মাটি ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এনিয়ে আজ রবিবার তাঁর কার্যালয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেছেন এসিল্যাণ্ড।
উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি নবীর হোছাইন তার একেবারে বাড়ি লাগোয়া ‘ফুরইন মারা’ খালটি প্রবাহিত। সেই খালের ওপর একটি কালভার্টও রয়েছে। প্রবাহমান এই ছড়া খালটি সরাসরি মাতামুহুরী নদী এবং পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা জানান, ‘ফুরইন মারা’ খালটি একসময়ের খরস্রোতা ছড়াখাল ছিল। প্রবাহমান এই খাল দিয়ে চলমান মিঠাপানি দিয়েই উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, সাহারবিল, বদরখালী, বিএমচর ও ভেওলা মানিকচর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হয়। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পর্যায়ক্রমে খালটির গভীরতা কমার পাশাপাশি বিভিন্নস্থানে মাটি ফেলে ভরাটও করা হয়েছে। একইভাবে সাহারবিলের কোরালখালী এলাকায় নতুন করে মাটি ফেলে এই খালটি দখলপ্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন ‘কোন কারণে এই ছড়াখাল দিয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পুরো উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে কোন চাষাবাদই হবে না।’
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন লোকজন জানান, এই অবস্থায় চকরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী সড়কের পাশ দিয়ে চলমান খালটি সংকুচিত হয়ে আসছে। এতে বর্ষামৌসুমে ইউনিয়নের একটি বিশাল জনপদের পানি চলাচলে বেশ বাধাগ্রস্ত হবে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ আইনে প্রবাহমান নদী, শাখা খাল ও জলাধার ভরাট করা আইনত অপরাধ। এ নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। তার পরও প্রকাশ্যে এক্সেভেটর দিয়ে ‘ফুরইন মারা’ ছড়াখালটি দখলের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে। এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘প্রবাহমান ছড়া খালে মাটি ফেলে বাঁধ দেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে পাঠানো হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেনকে। এ সময় তিনি মাটি ফেলার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।’
এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার মো. তানভীর হোসেন বলেন, যখন মাটি কেটে ভরাটের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিই, তখন নবী হোছাইন সে জায়গা তার পৈতৃক বলে দাবি করেন। তাই এই দাবির স্বপক্ষে কী কাগজপত্র রয়েছে, তা নিয়ে রবিবার আমার দপ্তরে আসতে বলেছি। শর্ত দিয়েছি, তার আগে কোন মাটি ফেলার কাজ করা যাবে না।’
এসিল্যান্ড বলেন, ‘কাগজপত্র যাচাই এবং ট্রেস ম্যাপে যদি ওই জায়গা ছড়া খালের হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

x