ফুটবলের উন্মাদনা অব্যাহত থাকুক

এস এম মোখলেসুর রহমান

মঙ্গলবার , ৫ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
15

এক সময়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। কালের বিবর্তনে সেটি এখন ক্রিকেটে পরিণত হয়েছে। তাই বলে ফুটবল একেবারে হারিয়ে যায় নি। তার প্রমাণ সদ্য সমাপ্ত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট । চট্টগ্রাম আবাহনী আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট পুরো চট্টগ্রামকে ফুটবল উন্মাদনে ভাসিয়ে দিয়েছে আবারও। এর জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে হয় চট্টগ্রাম আবাহনী কর্তৃপক্ষকে। সাথে সিজেকেএস এবং বাফুফেকেও। এক সময়ে আবাহনী – মোহামেডান এর খেলা মানে ছিল চরম উত্তেজনা। কী খেলোয়াড় কী সমর্থক সবার মধ্যেই থাকতো উত্তেজনা। কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ও ঘটতো মাঝেমধ্যে। তবে আবার সেটা কেটে ও যেত। এখন ফুটবলের জোয়ার কিছুটা কম হওয়াতে দর্শক আর তেমন স্টেডিয়াম মুখি হয় না! কিন্তু এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে শেখ কামাল কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে আমি ফিরে পেলাম স্টেডিয়ামের সেই পুরানো রূপ। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যেটি ৮০ – ৯০ এর দশকে আবাহনী – মোহামেডান এর খেলাতে দেখা যেত। তখন চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে একটি পরিচিত মুখ ছিল ” ললিতা ” গ্যালারির সেই আচার বিক্রেতা “ললিতা” এখন নেই। শুনলাম সে ইহলোক ত্যাগ করেছে! জানিনা কতটুকু সত্য। সে দর্শকদের খুব মাতিয়ে রাখতো। তার কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে মোহামেডান গ্যালারির সেই চকলেট ছিটিয়ে দেওয়া বুড়ো দর্শকটির কথাও। তিনি ও জীবিত আছেন কিনা জানিনা। আগে স্টেডিয়ামে সাধারণ দর্শক খুব একটা যেত না! মহিলা দর্শক তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এখন মহিলা দর্শক ও দেখলাম। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। ক্রিকেট খেলা মহিলারা সরাসরি দেখতে পারলে ফুটবল খেলা কেন পারবেনা। আবাহনী বরাবরই আমার প্রিয় দল। এক সময়ে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে আবাহনীর খেলা মানেই ছিল আমার উপস্থিতি। মনে পড়ে ঢাকা মাঠের শেখ আসলাম, মহসিন, কায়সার হামিদ, সাব্বির, প্রয়াত মোনেম মুন্না, রুমি, মামুন জোয়ারদার প্রমুখদের খেলা। যারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন দলেও খেলতো। চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রয়াত মসিহ সালামের খেলা এখনও চোখে ভাসে। ফুটবলের এই উন্মাদনা অব্যাহত থাকুক এটাই কামনা করি।

x