ফিরোজা বেগম : নজরুল সংগীতের সম্রাজ্ঞী

সোমবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
74

উপমহাদেশের খ্যাতিমান ও বরেণ্য সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম। নজরুল সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায় এবং সততার গুণে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সম্রাজ্ঞীর আসনে। পেয়েছেন নজরুলের দুর্লভ সান্নিধ্য। আজ শিল্পীর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী।
ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮-এ জুলাই ফরিদপুরে। শৈশব কেটেছে সাংস্কৃতিক আবহে। যদিও সেসময় মেয়েদের গান শেখার চল ছিল না। কিন্তু বাবা মা-য়ের সংগীত প্রীতির কারণে বাড়িতে প্রচুর গান শোনা হতো। ফিরোজা নিজে নিজেই গান গাইতেন। তাঁর কণ্ঠের অপূর্ব সুর বাড়ির সকলকে অবাক করে দিত। শৈশবে মামা আর চাচাতো ভাইদের সাথে কলকাতায় বেড়াতে গিয়ে এক মজলিশে মধ্যমণি কবি কাজী নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ফিরোজা বেগম গান করেন। এবং খুব প্রশংসিত হন। মাত্র ১২ বছর বয়সে গ্রামোফোন কোম্পানি এইচ এম ভি ফিরোজা বেগমের প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। এরপর সংগীত জগতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরকার কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে তাঁর আরো রেকর্ড প্রকাশিত হয়। কিন্তু একটা সময়ে শিল্পী সিদ্ধান্ত নেন, তিনি কেবল নজরুল গীতিই গাইবেন। পরবর্তী সময়ে ফিরোজা বেগমের নজরুল সংগীত নিয়ে লং প্লে রেকর্ডও বের হয়। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত শিল্পী কলকাতায় ছিলেন। ১৯৫৬ সালে সুরকার কমল দাশগুপ্তের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৭২ সালের ২৭ অক্টোবর কলকাতার রবীন্দ্রসদনে সরাসরি গান পরিবেশন করেন শিল্পী ফিরোজা। সেটিই ছিল সেখানে কোনো শিল্পীর একক সংগীতানুষ্ঠান। ১৯৬৯ সালে ইসলামাবাদ রেডিওর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি গান ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি।’ এই বেতারে তাঁর গাওয়া অন্যান্য আরো গানের মধ্যে রয়েছে: ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘জয়, জয়, জয় বাংলার জয়’ প্রভৃতি। ১৯৬৭ সালে ফিরোজা বেগম ঢাকায় চলে আসেন। কমল ও ফিরোজা দম্পতির তিন সন্তান তাহসিন, হামিন ও শাফিন। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত জগতে হামিন ও শাফিন অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। নজরুল সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ফিরোজা বেগম বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, নজরুল আকাদেমি পদক, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক সহ আরো অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। নির্বাক কবি নজরুলকে গান গেয়ে শোনাতেন ফিরোজা বেগম। সেসময় কবিকে খুব উৎফুল্ল দেখাতো। ফিরোজা ছিলেন কবির ‘গানের পাখি’। শিল্পীর জীবনে এ এক অমূল্য অর্জন। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফিরোজা বেগম প্রয়াত হন।

x