ফাউজুল কবির-এর কবিতা

শুক্রবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কিছু নক্ষত্র কবিতা

কিছু নক্ষত্র কবিতা চুল খুলে হাওয়ায় উড়ায়
চুলের রহস্য ঘ্রাণ।মধুপোকা উড়ে উড়ে আসে
পাখিরা সুন্দর দেখে বাউলের মন নিয়ে ঘাসে
নারীরা সত্যই সুখী — সত্য শুধু বুকেরে জুড়ায়
কে আছে এমন কবি নারী আর কবিতা কুড়ায়।
জীবনে ফসল আছে মাঠেমাঠে থোকাথোকা ধান
ধানের ভেতরে থাকে কবিতা ও নারীদের প্রাণ
চাঁদের আলোতে বসে কোন কবি চাঁদেরে লুকায়।
আমার বিশ্বাস আছে চৈতন্যের কোষে কোষে সত্য
বুকের হৃদয় বড় না হলে মানুষেরা কখনো
কবিতা হয়ে উঠে না । কবিতারা কালের প্রতিমা
দৃশ্যমান করে তোলে প্রকৃতির তাবৎ নেপথ্য
কবিতারা ছবি আঁকে চোখেমুখে বোধের অনন্য
জীবন ও আকাশের নীলে জমে সীমা ও অসীমা ।

তারামন স্বপ্ন দেখা
সর্বত্র ভাঙন দেখি। আকাশ চৌচির।আমাদের
চোখ নাই শোক নাই। সমুদ্র ছারখার জ্বলেপুড়ে।
নীলিমা হয়েছে অন্ধ ।তবু কিছু আলো উড়েউড়ে
আসে — যেসব নক্ষত্র মরে নাই এখনো–তাহাদের
বুকের ভেতর থেকে। মৃত্যুহীন শিখারা– যাদের
প্রাণের অস্তিত্বে বাঁচে— অফুরন্ত আশা মুক্তিযুদ্ধ
আছে ইচ্ছা বাঁচিবার — ভালোবাসা বিশুদ্ধ বিশুদ্ধ
তাঁদের চোখে রোপণ করো —- প্রাণবন্ত বৃক্ষদের।
গতকাল রাতে হঠাৎ মরে গেলো ঝরে গেলো একা
বিখ্যাত সাহসী বৃক্ষ — তারামন বিবি । তারামন
শুধু নাম শুধু গল্প ? তারামন আগুনের লেখা
তারামন বাংলাদেশ — সবুজ পতাকা– –কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম —- জীবনের নক্ষত্রের নাম
সর্বত্র ভাঙন দেখি —– তবু তারামন স্বপ্ন দেখা।

জানালাটা ভেঙে ফেলো
জানালা ভেঙেই ফেলো । যত দ্রুত পার ভেঙে দাও
প্রয়োজন নেই আর গাম্ভীর্যের মুখোশ – টুখোশ
আলোর বিরুদ্ধে থাকা। আলো- যত দোষ নন্দ ঘোষ
এরকম কথাবার্তা — আচার বিচার রেখে যাও
মুক্ত আকাশের দিকে হাঁটো– পা বাড়াও পা বাড়াও।
সমগ্র শরীরে মাখো নীলিমার ঘ্রাণ –চঞ্চলতা
ভেতরের কারাগার ভাঙতে লাগে সাহস সততা
আলো খেয়ে আলো হও আলোদের আগুন জ্বালাও ।
জীবনেরে ভাঙা চাই জীবনের কামারশালায়
চোখের উপমা জাগে নক্ষত্র গভীর ইশারায়
আমলকি রূপ বাঁচে– আনন্দের প্রতিমা প্রমায়।
সব মানুষেরা নয় কেউ কেউ ভালোবাসে ধূপ
তেমনি আলোর প্রশ্নে কারো কারো চোখ থাকে চুপ
জানালাটা ভেঙে ফেলো পাখিদের তুমুল তৃষ্ণায় ।

সুখেরা বড়ই সুখী
ইচ্ছা নাই সাধ নাই –আশা ও ভরসা কিছু নাই
তবু বেঁচে থাকা একা। এ ও নিয়মের মধ্যে পড়ে
আমি একা নই, মাথা ভাঙা অনেক গাছেরা ঝরে
লণ্ডভণ্ড ও বিধ্বস্ত হয়ে বাঁচে কিছুকাল । তাই
মনে হয় এ সংসার ভালো আছে সুখে আছে।যাই
বলে হঠাৎ একদিন টা-টা করে হাত নেড়ে যারা
চলে যায় ভালোবেসে মরণেরে– বড় সুখী তারা
সুখেরা বড়ই সুখী — সুখ আছে ইচ্ছা নাই সাধ নাই।
জীবন শ্যাওলার মতো অকারণ বেড়ে ওঠে। দেখে
স্বপ্ন গভীর সবুজ — মনে মনে হতে চায় নীল
জানি প্রলুব্ধ সুন্দর চিবুকে অঙ্কন করে তিল
গোপনে স্মরণ করে, স্মৃতি শুভ্রতাকে বুকে মেখে
ডাকে নক্ষত্র নক্ষত্র- মনে গোলাপ গোলাপ লেখে
ইচ্ছা নাই সাধ নাই তবে কী আনন্দ বেঁচে থেকে !

x