ফলবাগানে স্বাবলম্বী

৮ মেট্রিক টন আম ছাড়াও মাল্টা কমলা পেঁপেসহ বিভিন্ন ফল উৎপাদন

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২২ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

প্রচেষ্টা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তি যে কোন মানুষকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। আর তার সাথে যদি দৃঢ় মনোবল যুক্ত হয় তবে যে কোন কাজেই সফলতা লাভ করা সম্ভব। তেমনি নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফলের বাগান গড়ে তুলে সফল হয়েছেন সীতাকুণ্ডের রাশেদ। কৃষির প্রতি তার অপরিসীম মমতা ও কঠোর পরিশ্রমে তার বাগানের আম গাছে থোকায় থোকায় আম ধরে রয়েছে। তার বাগান জুড়ে থাকা ফলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিনিয়ত তার বাগানে ছুটে আসছেন অনেক মানুষ।
স্থানীয় লোকজনের কাছে রাশেদ সফল কৃষক হিসাবে পরিচিতি লাভ করলেও বাগান দেখতে আসা লোকজন তাকে উপাধি দিয়েছেন বৃক্ষ প্রেমী হিসাবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তার বাগানের বিষ মুক্ত ফল দৃষ্টি কড়েছে স্থানীয়দের। বর্তমানে তার বাগানের উৎপাদিত ফল বিক্রির মাধ্যমে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। ফল বাগান গড়ে সফলতা অর্জনকারী রাশেদের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কৃষিকে একধাপ এগিয়ে দেয়ার পাশাপাশি ফল বাগান গড়তে আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার অনেক বেকার যুবক।
আলাপকালে সৌখিন ফল বাগান মালিক মো. রাশেদ জানান, একান্ত শখের বসে ২০১৩ সালে বাঁশবাড়িয়া রেললাইনের পূর্বপাশের পাহাড় সংলগ্ন ৮ একর জমিতে আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলি। শুরুতে বন্ধুর পরামর্শে নওগাঁ থেকে আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, হিমসাগর, মল্লিকা, রাংগুয়াই, বারো মাসি, ফজলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে চার শ আমগাছের চারা কিনে আনি। পরবর্তীতে আরো এক’শ চারা জোগাড় করি। এছাড়াও তিন শতাধিক বারি ওয়ান মাল্টা, ৫০টি কমলা, সহস্রাধিক পেঁপে, ৫০টি শরিফার চারা রোপণ করা হয়। তবে বাণিজ্যিক প্রসারের স্বপ্ন সফলে ৮ একর ফল বাগানের মধ্যে ৫ একর জমিতে রোপণ করেন আমের চারা। শুরুতে বাগানের পরিচর্যার বিষয় বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মনসুরের পরামর্শে তা অতিক্রম করে সফলতার দেখা পান রাশেদ। এতে আমের চারা রোপণের দ্বিতীয় বছরে বাগানে প্রচুর পরিমাণে আমের ফলন হয়। প্রথমবারে বাগানের বিষমুক্ত আম নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনদের মাঝে বিলি করার পরও ৩/৪ লাখ টাকার আম বাজারে বিক্রি করি। প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমের ভালো ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭/৮লাখ টাকার আম বাজারে বিক্রি করেছি।
রাশেদ আরো বলেন, বাজারের ফলে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে আমি ভয়ে বাজার থেকে ফল কেনা ছেড়ে দিই। পরে বিষমুক্ত নিরাপদ ফল পেতে নিজ উদ্যোগে বাগান গড়ে তুলি। সাধারণ মানুষ এখন বিষমুক্ত ফল খেতে আগ্রহী। আমার বাগানের ফল বিষমুক্ত হওয়ায় সীতাকুণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার ক্রেতারা এখান থেকে আম কিনে নিয়ে যান।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী জমিতে অত্যন্ত যত্ন সহকারে উন্নত জাতের কলম পদ্ধতির বিভিন্ন প্রজাতির আম, মাল্টা, কমলা, পেঁপে ও শরিফার বাগান গড়ে তুলেছেন রাশেদ। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে বাগানের প্রতিটি আম গাছের ডাল। এছাড়াও ফল ও ফুলে শোভিত হয়ে আছে মাল্টা, কমলা ও পেঁপে গাছ।
রাশেদের বাগানের বিষমুক্ত আম কিনতে আসা সীতাকুণ্ডের সবুজ শর্মা শাকিল বলেন, কেমিক্যাল মেশানোর প্রবণতার ফলে বাজারের আম কেনা বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু রাশেদের বাগানের আমগুলো একদিকে যেমন বিষমুক্ত,অন্যদিকে খুবই সুস্বাদু। তাই এ বাগানের আম কিনে নিয়ে নিজে ও পরিবারের সবাইকে নিশ্চিতে খাওয়ানো যায়। এরকম ফল বাগান সীতাকুণ্ডের সকলশ্রেণির ক্রেতার মন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সীতাকুণ্ড কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মনছুর বলেন, রাশেদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে বাগানটি বাণিজ্যিক ফল বাগানে পরিনত হয়েছে।
বাগান গড়ে তোলার শুরুতে রাশেদের প্রবল আগ্রহ দেখে আমি তাকে সবধরনের সহযোগিতা করেছি। এবছর রাশেদের বাগানে বিষমুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির ৮ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। ফলের বাগানে রাশেদের এ সফলতা কৃষি বিভাগকে চমকে দেওয়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমিতে এবং পাহাড়ের বুকে বাগান গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন অনেক বেকার যুবক।

x