ফরাসি বিপ্লব: মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণা

শনিবার , ১৪ জুলাই, ২০১৮ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
90

বিশ্ব ইতিহাসে ফরাসি বিপ্লব এক যুগান্তকারী ঘটনা। আঠারো শতকের শেষ দশকে ফ্রান্সের অভিজাতবর্গ ও শাসকশ্রেণির বর্বর অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে এই বিপ্লবী আন্দোলন আমূল পাল্টে দিয়েছিল ফ্রান্সকে। এই আন্দোলনই পরবর্তীসময়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে।

ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে সামন্তযুগের বিলুপ্তি ঘটে, সূচনা হয় নতুন যুগের। ১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই বিপ্লব সংঘটিত হয়।

১৭৭৮ থেকে ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ফ্রান্সের সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিল ঘটনাবহুল। তবে যথাযথ আন্দোলন শুরু হয় ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুলাই। সে সময় ফ্রান্সের সম্রাট ছিলেন ষোড়শ লুই। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ফ্রান্সের জনসংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। সামন্ততন্ত্রের নিষ্পেষণে কৃষকরা ছিল পর্যুদস্ত। ফ্রান্সের বুর্জোয়া শ্রেণিরও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় কোনো অধিকার ছিল না। সর্বোপরী আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ফ্রান্স আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ধরনের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ভলতেয়ার, রুশোর মতো ফরাসি দার্শনিক ও লেখকবৃন্দও নতুন প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের পক্ষে জোড়ালো মত প্রচার করেন। রুশোর সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার বাণী আদর্শ হিসেবে মেনে নিয়ে সম্মিলিত জনতা ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ ও দখলের মাধ্যমে জনগণের বিপ্লব জয়যুক্ত হয়। সামন্তবাদের অবসান ও মানুষের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে গঠিত হয় নতুন জাতীয় পরিষদ।

x