ফটিকছড়িতে মন্ত্রী মোশাররফের পথসভার মঞ্চ ভাঙচুর

পাল্টাপাল্টি স্লোগানে আরেক পথসভায় উত্তেজনা

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৫ অক্টোবর, ২০১৮ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
452

ফটিকছড়ির ঝংকার মোড়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পথসভার মঞ্চ ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় দক্ষিণ ফটিকছড়ির আজাদী বাজারের পথসভায় একদল উচ্ছৃংখল যুবকের পাল্টাপাল্টি স্লোগান বন্ধ না করায় মন্ত্রী বক্তব্য না রেখেই সভাস্থল ত্যাগ করেন। ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ গতকাল ফটিকছড়ি এবং রাউজান উপজেলায় কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। রাউজানের গহিরা গোল চত্বরে পথসভা এবং গহিরা ও নোয়াজিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভায় অংশ নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আজাদী বাজারে যান তিনি। পথসভায় মোশাররফের বক্তব্যের সময় এইচ এম আবু তৈয়ব এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরীর অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, এসময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ স্লোগান থামাতে বলেন। কিন্তু কোনো পক্ষই স্লোগান না থামালে তিনি বক্তব্য অসমাপ্ত রেখেই মঞ্চ থেকে নেমে যান। ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আক্তার বলেন, ‘আজাদী বাজারে পাল্টাপাল্টি স্লোগানের কারণে মন্ত্রী পথসভা শেষ না করেই চলে যান।’ ঘটনার বিষয়ে আবু তৈয়ব বলেন, ‘সভায় আমি যাইনি। আমাদের অহেতুক দোষারোপ করা হচ্ছে।’

নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেন, ‘আজাদী বাজারে স্লোগান দিতে নিষেধ করেন মন্ত্রী। স্লোগান না থামানোয় তিনি রাগ করে স্টেজ থেকে নেমে গেছেন। মন্ত্রী গাড়িতে করে নাজিরহাট যাওয়ার সময় নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের অনুরোধে তিনি ওই মাদ্রাসায় যান ও ঘুরে দেখেন।’ নাজিরহাটে পথসভার মঞ্চ ভাঙচুর করা প্রসঙ্গে নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেন, ‘তখন মন্ত্রী সেখানে পৌঁছেননি। কিছু লোকজন এসে ব্যানার ছিঁড়ে দেয় এবং ভাংচুর করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’ তবে দুপুরে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেখানে জনসভা হয়। এরপর ভুজপুর, বিবিরহাট ও হেঁয়াকো বাজার এলাকায় জনসভা করেন মন্ত্রী মোশাররফ।
ঝংকার মোড়ের পথসভা : ঝংকার মোড়ের পথসভায় গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশরাফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী রোড-শোতে কারা উচ্ছৃংখল আচরণ করেছে, কারা বিশৃংখলা করেছে, তাদেরকে কে পাঠিয়েছে ? তা আমি জানি। তাদের ব্যাপারে দলনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাইব। তারা আমাদের দলের নয়। কারা করেছে আমার জানা আছে, ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের দলের ঐক্য নষ্ট করার জন্য কিছু লোক অনুপ্রবেশ করেছে। তারাই আজ বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে। তাদের ব্যাপারে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই ফটিকছড়ি থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আমিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ অনুরোধটাই করব। সরকারের দুই মেয়াদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রুল মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর বেগম জিয়া এতিমের হক লুটপাট করেছিল। তাই তিনি এখন জেলে। নাজিরহাট ঝংকার মোড়ে পথসভায় ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবুল হক সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম। ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হারুন, আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন শাহ, যুবলীগ নেতা মো. সেলিম, জেলা পরিষদ সদস্য শওকতুল আলম, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী দিলোয়ারা ইউছুপ, বাসন্তী প্রভা পালিত, খাদিজাতুল আনোয়ার সানি, ফটিকছড়ি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি এম এ কাইয়ুম, সৈয়দ মোহাম্মদ বাকের, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার রোটন, বখতেয়ার সাঈদ ইরান, ফটিকছড়ি পৌর মেয়র মো. ইছমাইল, সুন্দরপুরের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

x