ফটিকছড়িতে ধর্ষণের বিচার করেন চেয়ারম্যান! (ভিডিও সহ)

জরিমানা জমা রাখেন ইউপি কোষাগারে

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

শুক্রবার , ২ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:২৫ অপরাহ্ণ
1528

দশ বছরের শিশুকে মাছের প্রলোভণ দেখিয়ে ধর্ষণ করে জনৈক মাওলানা। গত ২৯ জুলাই খবর পেয়ে তাকে ধরে আনা হয় ফটিকছড়ির ১৩নং লেলাং ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার চৌধুরী শাহীনের বাড়িতে। তাকে সারাদিন পিঠানোর পর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তার দুইদিন পর ৩১ জুলাই ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক কাপড় ফেরিওয়ালা। তাকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ধরে এনে ১০০ বেত্রাঘাত করা হয় এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুইটি ঘটনায় আদায়কৃত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জমা রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ কোষাগারে।

চেয়ারম্যানের এমন আচরণে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এটা নিয়ে।

এদিকে অস্ত্রধারী নিজস্ব বাহিনী দিয়ে এলাকায় মাদক নির্মূল অভিযানের নামে নিরীহ লোকজনকে মারধর ও হয়রানি করা প্রসঙ্গে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার চৌধুরী শাহীন সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার আমাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন কিন্তু তারা যখন সন্ত্রাসী/অপকর্মকারীকে ধরে কোর্টে চালান দেন, তারা (অপরাধী) দুই দিন পর জামিনে এসে আমাদের বৃদ্ধাঙ্গুল দেখায়। তাই আমি আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তর করার দরকার ছিল।’

ধর্ষণের বা ধর্ষণের চেষ্টার বিচার একজন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান সরোয়ার চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ষণের বিচার আমি করতে পারব না কিন্তু ধর্ষণের চেষ্টা হলে সে বিচার করতে পারব।’

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

চেয়ারম্যানের এমন ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র সমলোচনার ঝড় উঠে। উক্ত ইউপির সদস্য মোহাম্মদ ওসমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান বিচার করেছেন। সবাই সেটি মেনে নিয়েছেন।’

এদিকে লেলাং ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার চৌধুরী শাহীনের নেতৃত্বে গত বুধবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে রায়পুর-ছাড়ালিয়াহাট এলাকায় বেশ কিছু এলাকাবাসী নির্যাতিত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এতে আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন রবিউল হাসান বাচ্চু, শিমুল চন্দ্র নম, মোহাম্মদ মঞ্জু, অনিল চন্দ্র নম, রানা চন্দ্র নম, মোহাম্মদ আলী।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে নিরীহ লোকজনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাড়ালিয়ার হাট বাজার সড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করার ফলে প্রায় আধাঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়।

আহত রবিউল হাসান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, ‘কোরবানীর গরু পাহারার সময় টুয়েন্টি নাইন খেলা যদি অপরাধ হয় তাহলে চেয়ারম্যান আমাকে পরিষদে ডেকে নিয়ে বিচার করতে পারতেন, পুলিশে দিতে পারতেন কিন্তু রাতের অন্ধকারে কিরিচ, হকিস্টিক, লাঠিসোটা দিয়ে এলাপাতাড়িভাবে মেরে হাত-পা ভেঙ্গে দিলেন কেন?’

চেয়ারম্যান নিজেই ফৌজদারী অপরাধ করেছেন দাবি করে চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট তরুণ কিশোর দেব বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তারা স্থানীয় সরকারের আওতাধীন কী কী বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারবেন তার আইন আছে এবং সরকার তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব বিষয়ে প্রতিনিয়ত সচেতন ও অভিজ্ঞ করে তুলছে। তবে যখন-তখন তিনি এরকম মনগড়া বিচার করতে পারেন না। তার উচিত ছিল ঘটনাটি জানার সাথে সাথে ভিকটিম ও ধর্ষককে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্থান্তর করা কিংবা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মছিহ দৌল্লাহ রেজা বলেন, ‘ধর্ষণ ঘটনায় চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই শালিশ-বিচার করার। এটি সরাসরি আদালতেই বিচার হবে।’

চেয়ারম্যান সরোয়ার চৌধুরী শাহীনের বক্তব্যের ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/DainikAzadi/videos/2409873072578613/

x