প্রাথমিকের ৯৪ শতাংশ বই স্কুলে

চট্টগ্রাম জেলা

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
106

শেষ হচ্ছে আরেকটি শিক্ষাবর্ষ। মাঝে ৩দিন পরই নতুন বছর। এরই মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ফলাফলও প্রকাশ করেছে প্রাথমিক স্কুলগুলো। ফলাফল পেয়ে নতুন ক্লাসের নতুন বইয়ের অপেক্ষায় দেশের কয়েক কোটি খুদে শিক্ষার্থী। এখন শুধুই নতুন বছরের প্রথম দিনের ক্ষণ গণনা। ওই দিন দেশজুড়ে চলবে বই উৎসব। নতুন বই হাতে নিয়ে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনবে শিক্ষার্থীরা। নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা শিক্ষার্থীর উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে যাবে শিক্ষকঅভিভাবকদেরও। বই উৎসব ঘিরে স্কুলগুলোতে বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই আসতে শুরু করে নতুন বই। চট্টগ্রাম জেলার স্কুলগুলোতে এরই মধ্যে চাহিদার প্রায়ই বই পৌঁছে গেছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতেপ্রাথমিকের মোট চাহিদার গড়ে এরই মধ্যে (২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৯৪ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে চট্টগ্রামে। হিসেবে মাত্র ৬ শতাংশ বই এখনো আসেনি।

জেলার মোট ২০টি থানা/উপজেলার মধ্যে ১৪টি থানা/উপজেলায় ইতোমধ্যে শতভাগ বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা। এসব বই এরই মধ্যে স্কুলেস্কুলে পৌঁছে গেছে জানিয়ে নাসরিন সুলতানা বলেন, বাকি ৬টি থানা/উপজেলায় অল্প কিছু বই এখনো আসেনি। যা কয়েকদিনের মধ্যেই (নতুন বছরের আগেই) পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর ৬টি থানা ও ১৪টি উপজেলাসহ চট্টগ্রাম জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৯২টি (২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী)। এর মধ্যে জাতীয়করণকৃতসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২ হাজার ২৪৫টি। বাকি ২ হাজার ৫৪৭টি বেসরকারি ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০১৮ সালে প্রাথমিকের মোট বইয়ের সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ৫১ লাখ ৩৬৬টি। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৪৮ লাখ ১ হাজার ৪৬৬টি। যা চাহিদার ৯৪ শতাংশ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ীজেলার বাঁশখালী উপজেলায় এবার প্রাথমিকের বইয়ের চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০টি, রাউজানে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০, সন্দ্বীপে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮০, ফটিকছড়িতে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৫৫, পটিয়ায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭০০, আনোয়ারায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০, বোয়ালখালীতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০, লোহাগাড়ায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৮০০, ডবলমুরিং থানায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫, চন্দনাইশে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮০, হাটহাজারীতে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৫, রাঙ্গুনিয়ায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭১৫, মীরসরাইয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৬০, সীতাকুণ্ডে ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০, পাহাড়তলী থানায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০, বন্দর থানায় ৩ লাখ ৮ হাজার ১০০, কোতোয়ালী থানায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩২৬, পাঁচলাইশ থানায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ২০০, চান্দগাঁ থানায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৯০০ ও সাতকানিয়া উপজেলায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৬০০টি।

এর মধ্যে নগরীর কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং, বন্দর, পাহাড়তলী এবং উপজেলাগুলোর মধ্যে সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও আনোয়ারায় চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, চান্দগাঁও থানায় চাহিদার ৭৮ শতাংশ, হাটহাজারী উপজেলায় ৮৪ শতাংশ, রাউজানে ৬৮ শতাংশ, রাঙ্গুনিয়ায় ৭৯ শতাংশ এবং চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ায় মোট চাহিদার ৭৮ শতাংশ বই পাওয়া গেছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

x