প্রাণে বাঁচতে রাখাল সেজে ঘুরে বেড়াতেন বাগদাদি

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
163

ইরাকের মসুলে আল নুরি মসজিদে দাঁড়িয়ে একটা মাত্র জ্বালাময়ী ভাষণ। আর তাতেই সাড়া পড়ে গিয়েছিল পুরো বিশ্বে। পরিবার পরিজনদের ছেড়ে তার দলে ভিড়েছিল হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে। কোথাও আবার একাই রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল কেউ কেউ। কিন্তু জীবনের শেষ দিনগুলোতে সেই প্রতাপ ধরে রাখতে পারেননি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি।
বরং সারাক্ষণ শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াতো তাকে। তাই মাঝেমধ্যেই মেষপালকের ভান ধরতেন তিনি। তার সন্দেহ ছিল, যে কোনও সময়, যে কোনও দিক থেকে আক্রমণ হতে পারে। মানসিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে খুব কাছের লোকদের প্রতিও অবিশ্বাস জন্মেছিল। বাগদাদির সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৬ অক্টোবর সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের বারিশা এলাকায় বাগদাদির গোপন আস্তানায় হানা দেয় মার্কিন বাহিনীর অভিজ্ঞ ডেল্টা এবং ৭৫তম রেঞ্জার রেজিমেন্ট। হঠাৎ এই হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন বাগদাদি। তিন সন্তানকে নিয়ে একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে আশ্রয় নেন। সেখানেই আত্মঘাতী জ্যাকেটের বোতাম টিপে তিন সন্তান ও নিজেকে উড়িয়ে দেন বাগদাদি। সেই সময় তার কয়েকজন অনুচরও ওই আস্তানায় ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। আত্মসমর্পণও করে কয়েকজন। বার্তাসংস্থা এপি বলছে, আত্মসমর্পণকারী ওই আইএস জঙ্গিরাই মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে বাগদাদির জীবনের শেষ দিনগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। মার্কিন যৌথ বাহিনীর লাগাতার হামলায় ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল আইএস। তাদের দখলে থাকা একাধিক এলাকাও একে একে হাতছাড়া হচ্ছিল। আর এতেই নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করেছিল বাগদাদিকে। ইরাক সীমান্তে পূর্ব সিরিয়ার যেটুকু অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানেই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। একসময় নিজেকে ইসলামিক স্টেটের ‘খলিফা’ হয়ে উঠতে চাইলেও, শেষমেশ আল-কায়েদাসহ প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গি সংগঠনগুলো উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিবেই আস্তানা গড়ে। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া আর কারও সেখানে আসার অনুমতি ছিল না।
সেই পরিস্থিতিতে ইদলিবের ওই আস্তানায় একটি ইয়াজিদি কিশোরীকে বাগদাদি যৌনদাসী করে রাখে। বিশ্বস্ত অনুচরদের সঙ্গে কোথাও গেলে, মেয়েটিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন তিনি। একবার চারমাসের জন্য দাশিসায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন বাগদাদি।

x