প্রাইমারী স্কুল পরিচালনা কমিটির নতুন নীতিমালা প্রসঙ্গে

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ
16

সরকারি প্রাইমারী স্কুল পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) নতুন এক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে প্রাইমারী ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালা এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানা যায়। নতুন এই নীতিমালায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক রেখে এবারই প্রথম সভাপতি হতে কমপক্ষে স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং স্কুলের অভিভাবকদের সমন্বয়ে তা (কমিটি) গঠনের নতুন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অথচ বিদ্যমান কমিটিতে অভিভাবক ছাড়াও জমিদাতা, বিদ্যোসাহী, মাধ্যমিক এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি এবং পদাধিকারবলে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির থাকার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নতুন এই নীতিমালায় এসব নিয়ম অনুসরণ করা হয় নাই। বিশেষ করে এক্ষেত্রে স্কুলের জমিদাতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এই নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টতাদের কাছে। এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি। কারণ প্রাইমারীতো বটেই, এমনকি মাধ্যমিকসহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোন শর্ত বা নিয়ম না থাকলেও ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের এসব স্কুলে এত উচ্চ ডিগ্রিধারী’র কেন প্রয়োজন হল তা মোটেই বোধগম্য হচ্ছে না। এই শর্তের ফলে সমাজের জ্ঞানী-গুণী, অভিজ্ঞ ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত অনেকের সভাপতি হতে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। এতে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষের অভাব দেখা দিবে। সাধারণত এলাকার সমাজ ও শিক্ষাদরদী এবং নেতৃস্থানীরাই মূলত প্রাইমারী স্কুল কমিটি পরিচালনা করেন। তাছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে। তারা স্বাভাবিকভাবে পদাধিকার বলে কমিটিতে থাকবে। এটাই প্রচলিত নিয়ম। সেই ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক এসব স্কুল জাতীয়করণ করার পর থেকে এ যাবত এসব নিয়মই চলে আসছে বিধায় শিক্ষাগত যোগ্যতার অমানবিক শর্ত প্রত্যাহার কিংবা তা আরো শিথিলসহ জমিদাতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয় সহ প্রাইমারী শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বজল আহম্মদ, সহ-সভাপতি, কলিমউল্লাহ মাস্টার বালিকা বিদ্যালয়,
এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম।

x