প্রবেশপত্র হারিয়েও পরীক্ষা দিতে পারল মেয়েটি

ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৭ মে, ২০১৯ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ট্রাফিক পুলিশ ও সিএনজি চালকের তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র ফিরে পেল এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। গতকাল সকালে নগরীতে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সকালে ইয়াছমিন আরা আমিন নামে সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী সিএনজি যোগে নগরীর এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায়। এ সময় সে ভুলে সিএনজিতে তার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ যাবতীয় কাগজপত্র রেখে নেমে পড়ে। সিএনজি চালকও ভাড়া নিয়ে চলে যান। পরে ওই ছাত্রী হলে ঢুকে তার কাগজপত্র না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এদিকে একই সময় সিটি কলেজের সামনে যানজট নিরসনে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিলেন নগর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই-সদরঘাট) দেবব্রত। এসময় এক সিএনজি চালক তাকে এসে বলেন, স্যার, গাড়িতে একটি ফাইল পাওয়া গেছে। পরে তিনি ফাইলটি নিয়ে দেখেন সেখানে একটি প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও জ্যামিতি বঙ রয়েছে। প্রবেশপত্রে দেখেন ওই শিক্ষার্থী সিটি কলেজের এবং তার পরীক্ষা কেন্দ্র এনায়েতবাজার মহিলা কলেজে। পরে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে কাগজপত্রগুলো ফিরিয়ে দিতে তৎপরতা শুরু করেন।
ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রথমে তিনি সিটি কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করে মেয়েটির অভিভাবকের ফোন নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় অভিভাবকের ফোন নম্বর কলেজে সংরক্ষণ না থাকায় অধ্যক্ষের মাধ্যমে এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি তাকে জানান। পরে তিনি দ্রুত এনায়েত বাজার পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে ওই ছাত্রীকে কাগজপত্রগুলো ফিরিয়ে দেন।
দেবব্রত বলেন, আমি কেন্দ্রে পৌঁছে জানতে পারি ইতোমধ্যে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাগজপত্রগুলো ফিরেয়ে দিতে পেরে আমার নিজেও খুব খুশি লাগছে। তিন/চারদিন আগেও একইভাবে বাওয়া স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ওই শিক্ষার্থীর কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। এদিকে গতকাল ওই পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি নগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কাজে এগিয়ে আসছেন পুলিশ সদস্যরা। কেউ প্রাণ বাঁচাতে, কেউ আর্থিক সহায়তায়, আবার কেউ দুস্থদের চিকিৎসায় হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে বাহিনীর সদস্যদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

x