প্রবীণরা সমাজের বোঝা নয়, জাতির সম্পদ

হাটহাজারীর মেখলে প্রবীণ মেলায় ড.খলীকুজ্জামান

হাটহাজারী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
126

হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নে ঘাসফুলের আয়োজনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় প্রবীণ মেলা গতকাল সোমবার উত্তর মেখল জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ঘাসফুল নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী। মেখল ইউনিয়নে ঘাসফুল বাস্তবায়নাধীন প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মেলার আয়োজন করা হয়। প্রবীণ মেলা উদ্বোধন করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এতে অতিথি ছিলেন, পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক মুখ্যসচিব মো: আবদুল করিম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ঘাসফুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাবুর রহমান জাফরী।
অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, প্রবীণ ভাতা প্রাপ্ত উপকারভোগী মোঃ রফিক উদ্দিন। প্রধান অতিথি বলেন, প্রবীণরা কখনো বৃদ্ধ নয়, মানসিক দিক দিয়ে অনেক সক্ষম, দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের সমাজ পরিবর্তনে এবং উন্নয়নে প্রবীণদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সমৃদ্ধি কর্মসূচি এমন এক কর্মসূচি যা সমাজের শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ জনগোষ্ঠী পর্যন্ত কর্মসূচির সেবা গ্রহণ করতে পারে।
এমনকি মৃত্যুর পর দাফন-কাফন সেবা পর্যন্ত এ কর্মসুচির আওতায় রয়েছে। প্রবীণদের বোঝা নয়, দেশের সম্পদ হিসেব গণ্য করতে হবে। পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবদুল করিম বলেন, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয়রাই ভুমিকা রাখতে পারে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে পিকেএসএফ এর সমৃদ্ধি কর্মসূচি। তিনি বলেন, পিকেএসএফ’র সহায়তায় ঘাসফুল নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কাজ শুরু করেছে। হাটহাজারীর প্রসিদ্ধ লাল মরিচ জাতীয়ভাবে একটি ব্রান্ড হিসেবে পরিচয় এবং বাজারজাতকরণে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ঘাসফুল কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পিকেএসএফ’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ জসীম উদ্দিন, মোঃ ফজলুল কাদের, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুল আলম চৌধুরী, মেখল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সালাহউদ্দীন এবং ঘাসপুলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে শতবর্ষী একজন নারী আজব খাতুনকে সিনিয়র সিটিজেন সম্মাননা এবং প্রবীণভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ১০০জন প্রবীণকে প্রবীণভাতা, একজনকে অস্বচ্ছল প্রবীণ ভাতা, বিশ জনকে লাঠি, বিশজনকে ছাতা , বিশজনকে কমোড চেয়ার, ৬১ জনকে চশমা, দুইজনকে হুইলচেয়ার, পাঁচজন প্রবীণকে প্রবীণ সম্মাননা, একজনকে সিনিয়র সিটিজন সম্মাননা এবং জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

x