প্রবীণদের আলো আঁধারের জীবন

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
18

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবীণ বাস করছে। ২০২৫ নাগাদ এই সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ। বিবর্তনশীল সমাজের জীবনযাত্রা বিভিন্ন রকমের। বিভিন্ন বয়সের জীবনযাত্রা বিভিন্ন রকমের হলেও প্রবীণদের জীবনযাত্রা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। আর এ বেশির ভাগ প্রবীণদের জীবনযাত্রা আমাদের সমাজে খুবই করুণ ও বৈচিত্র্যময়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও রয়েছে এ করুণ বিষাদময় জীবনযাপন। এক সময় মনে করা হতো বার্ধক্য শুধু উন্নত বিশ্বেরই সমস্যা, কিন্তু না বার্ধক্য উন্নয়নশীল, অনুন্নত দেশেরও সমস্যা। বাংলাদেশে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের প্রবীণদের দুঃখ-দুর্দশা, পক্ষান্তরে শহরাঞ্চলের প্রবীণদের দুঃখ-দুর্দশা ভিন্ন রকমের। সেটা কায়িক পরিশ্রমের চেয়ে মানসিক পরিশ্রমের ভাগ বেশি। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের প্রবীণরা কায়িক মানসিক দু’ধরনের অত্যাচারের শিকার হয়। শহরাঞ্চলের বাহ্যিক চিত্ত বিনোদনের সুযোগ থাকলেও অন্তর্জগতে (ঘর সংসারে) এ সুযোগ নেই। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে চিত্ত বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। সমস্যা-সমস্যাই। তবুও শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে প্রবীণদের সমস্যা বেশি। একটি শিশুর যেমন মৌলিক চাহিদা ভোগ করার অধিকার থাকে, তেমনি একজন প্রবীণেরও এ চাহিদাগুলো মেটানোর অধিকার আছে। কিন্তু আর্থ সামাজিক ও সংস্কৃতির কারণে এ প্রবীণেরা তাদের অধিকারগুলো মেটাতে পারছে না। আমাদের দেশে প্রবীণদের বেশির ভাগই কর্মহীন থাকায় তাদের সামাজিক চাহিদাটুকুও তারা পায় না। সেটা সংসারেই হোক আর সমাজেই হোক। সর্বক্ষেত্রেই এক তাচ্ছিল্যভাব। একজন প্রবীণ ব্যক্তি কর্মহীন হয় তখন যখন সে তার বয়সের ভার সহ্য করতে পারে না। আর তাই সমাজ সংসারে তার কোন মূল্যই নেই। এক সময় যৌথ পরিবার সবাই পছন্দ করত। কিন্তু যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে বেশি। যৌথ পরিবারের বা সংসারের প্রধান কর্তা হত ঐ পরিবারের প্রবীণ ব্যক্তিটি। কিন্তু বর্তমানে সে ব্যবস্থার বিপরীত হচ্ছে। ফলে সংসারের প্রবীণ ব্যক্তিটির কোন মূল্যই নেই। তিনি অবহেলা ও অনাদরের শিকার হচ্ছেন। তারপর যদি তাদের আয় রোজগার করার কোন পথ না থাকে তবে তো কথাই নেই। গ্রামাঞ্চলে বয়সের ভারে অত্যন্ত কষ্ট হলেও কৃষি কাজে ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হতে হয় প্রবীণদের। এটা সত্য যে প্রবীণরা আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাই করুণা নয় বরং শ্রদ্ধা ভরা ভালোবাসা আর সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রবীণদের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x