প্রধানমন্ত্রী পদে বোনের লড়াইয়ের বিরোধিতায় থাই রাজা

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
151

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বোনের প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াইয়ে নামার চেষ্টা ‘অনুচিত’ এবং অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণ। রাজার বোন প্রিন্সেস উবোরাতানা শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ব্যতিক্রমী নজির সৃষ্টি করেন। ৬৭ বছর বয়সী উবোরাতানা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি বর্তমান থাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণের বড় বোন এবং প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের প্রথম সন্তান। নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুগত দলের একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার এ পদক্ষেপে থাই রাজপরিবারের রাজনীতির বাইরে থাকার প্রথা ভঙ্গ হবে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী থাই রাজপরিবার রাজনীতির বাইরেই থাকে।
আগামী ২৪ মার্চ থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচন। থাই রাজার আপত্তির কারণে এখন নির্বাচন কমিশন উবোরাতানাকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। রাজপ্রাসাদ থেকে এক বিবৃতিতে রাজা বলেছেন, ‘রাজপরিবারের উচ্চপদস্থ সদস্যের রাজনীতিতে জড়িত হওয়া, তা যেভাবেই হোক না কেন, তা দেশের ঐতিহ্য, প্রথা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর সেকারণেই এ ধরনের কিছু করা একেবারেই ঠিক নয়।’
এদিকে রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি’র পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা বাতিল করেছে তার দল। রাজা রাজকন্যার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতার পরই এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাই রাকসা পার্টি রাজকীয় আদেশ মেনে চলবে। গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এর আগে রাজার সমালোচনার জবাবে রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি বলেছিলেন, সব ধরনের রাজমর্যাদা ত্যাগ করে তিনি এখন সাধারণ নাগরিকের মতো জীনযাপন করেন।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়ে নিজের অধিকারের চর্চা করতে চান তিনি। সাংবিধানিক গণতন্ত্রের দেশ থাইল্যান্ডে ১৯৩২ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত রাজপরিবারের কোনও সদস্য প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে অংশ নেননি।
১৯৫১ সালে জন্ম নেওয়া রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গ্রাজুয়েট। ১৯৭২ সালে এক আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করেন তিনি। বিদেশিকে বিয়ে করে রাজমর্যাদা ত্যাগ করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০১ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে তিনি রাজকীয় জীবন যাপনে অংশ নিতে শুরু করেন। বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করা রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সামরিক অভ্যুত্থানে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওচার অধীনে এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছোট বোন ছিলেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। বতর্মানে দুজনই স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকলেও থাই রাজনীতিতে তাদের প্রভাব রয়ে গেছে। দেশের অনেকেই এখনও তাদের অনুগত। এমন পরিস্থিতে তাদের ঘনিষ্ঠ একটি দলের হয়েই নির্বাচন করতে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি। তবে শেষ পর্যন্ত সে উদ্যোগ ব্যাহত হয়।
থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র অবমাননা আইন বেশ কঠোর। তবে কৌশলগতভাবে ‘লেস ম্যাজেস্টি’ নামের ওই আইনের আওতায় পড়েন না রাজকন্যা সিরিভাধানা বার্ণাভাদি। তা সত্ত্বেও থাইল্যান্ডে রাজপরিবারের সমালোচনা বেশ বিরল। দেশটিতে রাজপরিবারকে সম্মানের চোখে দেখা হয়।

x