প্রথিতযশা শিল্পী আবদুল্লাহ আল মামুন

বুধবার , ২১ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
27

আবদুল্লাহ আল মামুন – বিশিষ্ট নাট্যকার, পরিচালক, নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা। বাংলাদেশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ ও পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। মঞ্চনাটকের ইতিহাসে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণ্য। ঔপন্যাসিক ও সংগঠক হিসেবেও তিনি বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। আজ তাঁর একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী।
আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বি.এ অনার্স ও এম. এ করেন তিনি। নাট্যঅন্তপ্রাণ আবদুল্লাহ আল মামুন প্রচুর নাটক রচনা করেছেন এবং সেগুলো বিভিন্ন সময়ে মঞ্চস্থ হয়েছে, টিভি নাটক হিসেবে প্রচারিত হয়েছে। প্রগতিভাবাপন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে সময় ও সমাজ অন্বেষার পরিচয় ফুটে ওঠে তাঁর রচনায়। স্বাধীন বাংলাদেশে মঞ্চস্থ প্রথম মৌলিক কাব্যনাট্যের প্রযোজনা করেছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নামের এই নাটকটি ১৯৭৬ সালে মঞ্চস্থ হয়। এতে নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, রবীঠাকুরের ‘ঘরে-বাইরে’, মুনীর চৌধুরী ও কবীর চৌধুরীর অনুবাদে শেকসপিয়রের ‘ওথেলো’, আনিসুজ্জামানের রূপান্তরে অরবুঝভের ‘পুরানো পালা’ প্রভৃতি নাটকে নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয়ে মামুনের অসাধারণ প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে। মৌলিক নাটকেও বিরলদৃষ্ট অবদান রেখেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সুবচন নির্বাসনে’, ‘এখনও দুঃসময়’, ‘ক্রস রোডে ক্রসফায়ার’, ‘এখনও কৃতদাস’, ‘তোমরাই’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’, ‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’, ‘মেহরজান আরেকবার’, ‘কোকিলারা’ প্রভৃতি। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘সারেং বউ’, ‘সখী তুমি কার’, ‘এখনই সময়’, ‘দুই জীবন’, ‘বিহঙ্গ’ প্রভৃতি। চলচ্চিত্রে সেরা পরিচালক ও চিত্রনির্মাতা হিসেবে দু বার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। নাটকের স্বীকৃতি হেসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদক। এছাড়া টেলিভিশন নাটকের জন্য প্রথম জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার অর্জনের কৃতিত্বও তাঁর। ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট প্রথিতযশা এই শিল্পী প্রয়াত হন।

x