প্রথম প্রান্তিকে কমেছে বৈদেশিক অর্থ ছাড়

শুক্রবার , ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
28

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তার অর্থ ছাড়ে পিছিয়ে পড়েছে সরকার। গত অর্থবছরের চেয়ে এবার ২০০ কোটি ডলার বেশি ছাড় করার লক্ষ্য থাকলেও প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থ ছাড়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ কোটি ডলার পিছিয়ে পড়েছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থছাড় করতে সরকারকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে আরো মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিডিনিউজের।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সব দাতা দেশ ও সংস্থা মিলে বাংলাদেশের অনুকূলে ৯৪ কোটি ডলার ছাড় করেছে।
চলতি অর্থবছরের জন্য দাতাদের কাছ থেকে ৮৪৭ কোটি ডলার ছাড় করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩৫ কোটি ডলার। যদিও শেষ পর্যন্ত ৬২০ কোটি ডলার ছাড় করা সম্ভব হয়েছিল।
জানতে চাইলে ইআরডির ফাবা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব পেয়ার মোহাম্মদ বলেন, দাতারা ঋণ চুক্তি করে প্রকল্পের বিপরীতে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়লে অর্থছাড়ও বাড়বে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্য অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে এবার অর্থছাড়ও পিছিয়ে বলে জানান তিনি। তবে কাজের গতি বাড়িয়ে অর্থবছর শেষে লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন বলে আশাবাদী পেয়ার মোহাম্মদ।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়াতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত লোকবলের দক্ষতা বাড়াতে হবে। যাতে কাজের মান এবং সময়মতো প্রকল্প শেষে করা যায়। কারণ যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারলে প্রকল্পের সময় এবং ব্যয় দুটোই বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, সমপ্রতি আমাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। এই ঋণের অর্থ আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে দেশ ঋণের চাপে পড়ে যাবে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে আরো সতর্ক হতে হবে।
অর্থছাড় কমলেও প্রথম প্রান্তিকে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২০ কোটি ডলার বেশি প্রতিশ্রুতি আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এবারের প্রথম তিন মাসে দাতাদের কাছ থেকে ২০১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল ১৮২ কোটি ডলারের। এদিকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাতাদের পুঞ্জিভূত পাওনা থেকে বাংলাদেশ ৪৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে দাতাদের কাছে বাংলাদেশ ৪৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল।

x