প্রচার সংঘ যুব’র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শ্যামল চৌধুরী

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
7

গত ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব’র আয়োজনে নগরের কাতালগঞ্জস্থ নব পণ্ডিত বিহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল উন্মুক্ত স্বর্ণপদক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণ, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়। প্রায় ৪ ঘন্টার অনুষ্ঠানে ছিল বক্তৃতা মাঝে মাঝে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা। হেমন্তের এ দিনে বিকেল গড়িয়ে তখন প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, সবাই প্রধান অতিথির জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতীক্ষার অবসানে সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলেন বিটিভির দর্শকনন্দিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান শুভেচ্ছা’র উপস্থাপক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার। আয়োজনের সবকিছুই তখন সম্পন্ন, দর্শকরাও কানায় কানায় পরিপূর্ণ। তাই আর এক মুহূর্তও দেরী না করে সাবিনা ইয়াসমিনের গান নজরুল ইসলামের কথায় ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’ দেশের গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর মঞ্চে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা বড়ুয়া, পিঞ্জর বড়ুয়া ও পুষ্পিতা বড়ুয়া। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যক্ষ ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া একুশেপদক প্রাপ্তিতে সংবর্ধনা জ্ঞাপনেরও আয়োজন ছিল। উদ্বোধক ছিলেন বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ থাইল্যান্ড’র এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী জেনারেল প্রমথ বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাবন্ধিক, শিল্পশৈলী সম্পাদক নেছার আহমদ। স্বাগত বক্তা ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া। উদ্বোধনী সংগীত ও নৃত্যের পর সংগঠনের সভাপতি পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল অতিথিবৃন্দকে নিয়ে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। অতিথিদের পুষ্পস্তবক, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট অপর্ণের পর সূচনা বক্তব্য রাখেন উদ্‌যাপন পরিষদের সচিব রাহুল বড়ুয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উদ্‌যাপন পরিষদের আহ্বায়ক শুভাশীষ বড়ুয়া সিন্টু, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় বড়ুয়া বাপ্পা, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য অমরেশ বড়ুয়া চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য অবিনাশ বড়ুয়া, উত্তর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. ঝুলেন বড়ুয়া ও রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ত্রিদীপ বড়ুয়া টিপু।
এবার একক সঙ্গীত পরিবেশনায় মঞ্চে আসে ‘ক’ বিভাগে স্বর্ণপদক বিজয়ী অনন্যা বড়ুয়া প্রমি। সে পরিবেশন করে প্রণব রায়ের কথা ও রবিন চ্যাটার্জির সুরে ‘হারজিৎ’ সিনেমায় সন্ধ্যা মুখার্জী কণ্ঠে গাওয়া ‘মধু মালতী ডাকে আয়’ গানটি। এরপর মঞ্চে আসে ‘খ’ বিভাগে স্বর্ণপদক বিজয়ী সাথী বড়ুয়া। তার পরিবেশনা ছিল ‘লাল গোলাপ’ সিনেমায় বরেণ্য শিল্পী সুবীর নন্দীর কণ্ঠে গাওয়া ‘পাখিরে তুই দূরে থাকলে’ গানটি।
এরপর মঞ্চে আসে ‘খ’ বিভাগে স্বর্ণপদক বিজয়ী সাথী বড়ুয়া।
তার পরিবেশনা ছিল ‘লাল গোলাপ’ সিনেমার বরেণ্য শিল্পী সুবীর নন্দীর কণ্ঠে গাওয়া ‘পাখিরে তুই ধূরে থাকলে’ গানটি।
আবারো সঙ্গীত পরিবেশনা পর্বে গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার কথায়, অমল মুখার্জীর সুরে শিল্পী গীতা দত্তের ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’ গানটি পরিবেশন করে ‘গ’ বিভাগে স্বর্ণপদক বিজয়ী সমাপ্তি বড়ুয়া। এরপর সংগঠনের মুখপত্র ‘অতিগ’ এর মোড়ক উন্মোচন পর্বে সম্পাদক অধ্যাপক বিপ্লব বড়ুয়া সম্পাদকীয় পাঠ করে অতিথিবৃন্দের হাতে মুখপত্রটি তুলে দেন।
এবার অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ জনপ্রিয় উপস্থাপক, একজন সমাজকর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ভবিষ্যতকে সুন্দর করার জন্য এখনই বিনিয়োগ করার সময় সেটা মানুষের মানসিক গঠনের পেছনে। আজকে সংস্কৃতিচর্চার জন্য, মানুষ হওয়ার জন্য পুরস্কৃত করা হচ্ছে। প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, শুধুই তাই নয়, এটাই বাংলাদেশের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।
সবশেষে সংগঠনের সভাপতি পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃতিচর্চায় সন্তানদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারলে ভবিষ্যত সমৃদ্ধ হয় এবং সচ্চরিত্র গঠনের সহায়ক হিসেবে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে।
সবশেষে এস. এম. হেদায়েত এর কথা, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সাবিনা ইয়াসমিনের দেশের গান ‘মাঝি নাও ছাইড়া দেয়’ সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্বোধনী ও সমাপনী দুটো সমবেত সংগীত পরিবেশনায় ছিল অনন্যা, অপ্সরী, প্রান্তি, শংকর, হৃষিতা, ইমন, বিপ্লব, সাথী, অনন্যা-২, অধরা, শর্মিষ্ঠা ও সমাপ্তি।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সিজার বড়ুয়া ও নির্বাহী সদস্য চান্দু বিকাশ বড়ুয়া। সাংস্কৃতিক পর্বের সংগীত পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী সুমন বড়ুয়া। যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন- কী বোর্ডে পঙ্কজ, তবলায় ববি বড়ুয়া ও অক্টোপ্যাডে জুয়েল।
সভাশেষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও জে.এস.সি-এস.এস.সি-এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের হাতে প্রধান অতিথি পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেন ‘ক’ বিভাগে অনন্যা বড়ুয়া প্রমি (বিশুদ্ধানন্দ স্বর্ণপদক), ‘খ’ বিভাগে সাথী বড়ুয়া (শুদ্ধানন্দ স্বর্ণপদক) ও ‘গ’ বিভাগে সমাপ্তি বড়ুয়া (সুগতানন্দ স্বর্ণপদক)। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে ৮৪ জন বিজয়ীকে পুরস্কার ও ১২৩ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

x