প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চসিককে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ
183

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক) স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি করায় মো. কামাল হোসেন সেলিম নামে প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তিনি সংস্থাটির বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত আছেন। গতকাল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী চসিকের প্রধান নির্বাহীকে দাপ্তরিক পত্র দিয়ে প্রকৌশলী সেলিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবহিত করতে বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মন্ত্রণালয়ের ওই পত্রে বলা হয়, ‘প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন সেলিম তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ, এইচ এন্ড এ, বি ইঞ্জিনিয়ার্স এর নামে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। যা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারি চাকরি বিধিমালা, ২০১৯ এর ধারা ৩৬ (এর) ২ (ঙ), সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ বিধি ১৭ (৩) এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৬ মে দৈনিক আজাদীতে ‘চসিকের একাধিক প্রকৌশলীর পরোক্ষ ঠিকাদারি! কেউ স্ত্রীর নামে, কেউ পার্টনারশিপে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এতে প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন সেলিম তাঁর স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি ব্যবসা করছেন মর্মে তথ্য ছিল। এরপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তদন্ত শেষে গত ৮ মে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা। এরপর গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী চসিকের প্রধান নির্বাহী এবং চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াসমীন পারভীন তিবরীজিকে দাপ্তরিক পত্র দিয়ে নতুন করে বিষয়টি নিয়ে সম্পূরক প্রতিবেদন পাঠাতে বলেন। জবাবে গত ১৮ আগস্ট চসিকের প্রধান নির্বাহী মন্ত্রণালয়কে জানান, ‘সরকারের অনুমোদন ছাড়াই প্রকৌশলীর স্ত্রী চসিকে ঠিকাদারি ব্যবসা করেছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন সেলিমের স্ত্রী জেবুন্নেছা খানমের নামে তালিকাভুক্ত ‘মেসার্স এ, এইচ এন্ড এ, বি ইঞ্জিনিয়ার্স’ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কর্পোরেশনে বেশ কিছু কাজ করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে বিবিরহাট গরুর বাজারের জন্য পিসি পোল স্থাপনপূর্বক ম্যাটাল হ্যালাইড শেইডের মাধ্যমে আলোকায়নের কাজ করেছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩শ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় ৩৬ নং ওয়ার্ডস্থ বারেক বিল্ডিং পোল হতে নিমতলা পর্যন্ত পোল সরবরাহ, উত্তোলন ও স্থাপন কাজ, ৫ লাখ টাকায় চসিকের আওতাধীন নালা-খাল থেকে (অংশ-১) এস্কেভেটর দ্বারা মাটি উত্তোলন অপসারণ কাজসহ বিভিন্ন কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর ১৭(৩) এ উল্লেখ আছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারি সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে তার পরিবারের কোনো সদস্যকে তার এখতিয়ারাধীন কোনো এলাকায় কোনো ব্যবসায় জড়িত হওয়ার অনুমিত দিতে পারবেন না।’ এছাড়া স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ অনুসারে ‘সিট কর্পোরেশনের কোনো কাউন্সিলর বা কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক সজ্ঞানে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, স্বয়ং বা কোনো অংশীদার মারফত কর্পোরেশনের কোনো ঠিকাদারতে স্বত্ব বা অংশ অর্জন করা অপরাধ।’

x