পেঁয়াজ সংকট: সরকারের সর্বোচ্চ মনোযোগ দরকার

রবিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
34

পেঁয়াজের মূল্য বিশ্ব রেকর্ড করেছে। দেশজুড়ে চলছে চরম নৈরাজ্য ও অস্থিরতা। বাজারে নানা অভিযান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস-আবেদন, বড় চালান আসার প্রতিশ্রুতি- কোনটাই কাজে আসেনি। লাফিয়ে লাফিয়ে আকাশ ছুঁয়েছে পেঁয়াজের বাজার মূল্য। কেজি প্রতি দুশত বিশ টাকা কি বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা? কী সাংঘাতিক! দু’বছর আগে দেশি পেঁয়াজের দাম ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তখন যেন কেঁপে উঠেছিল পুরো বাজার। এবার ডাবল সেঞ্চুরির পরও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে না। কেবল হৈ চৈ। কেবল আলোচনা-সমালোচনা। সেটা মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সবখানে বিস্তৃত।
পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে নড়ে চড়ে উঠেছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষগুলো পড়েছেন সীমাহীন চাপে। সরকারের আশ্বাসের ওপর এখন যেন সমস্ত বিশ্বাস উঠে যেতে বসেছে। কেননা, ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দু’এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বড় চালান দেশে পৌঁছাবে। দাম দ্রুত কমে আসবে।
কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৮ দিন পরও বড় চালান দেশে এসেছে, এ রকম কোন খবর পাওয়া যায় নি। বরং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এভাবে: ‘এলসি ৬৬ হাজার টনের, এসেছে ৬ হাজার টন’। আজাদীতে ১৫ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সঙ্কট কাটাতে ৬৬ হাজার ১৬২ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পত্র (এলসি) খোলা হলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছে ৬ হাজার টনের মতো। ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দেওয়া শিল্প গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কোন পেঁয়াজ এখনো বন্দরে এসে পৌঁছেনি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে টন প্রতি ন্যূনতম মূল্য ৮৫০ মার্কিন ডলার বেঁধে দেয়। তখনই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি পুরো বন্ধ করে দেয়। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ টন। আমদানি হয়েছে ১১ লাখ টন। সব মিলিয়ে সরবরাহ ৩৪ লাখ টন। তাহলে তো পেঁয়াজের সংকট থাকার কথা নয়। তবু কেন এই অস্থিরতা? সমস্যাটা কোন্‌ জায়গায়? জাতীয় সংসদে পেঁয়াজের এ অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আসলে পেঁয়াজের এই মূল্য বৃদ্ধিতে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সরকার কোন কিছু করতে না পারার কারণে এক ধরনের বেকায়দায় পড়েছে।
কেউ কেউ জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালানোর জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু আমরা মনে করি, জরুরি ভিত্তিতে অভিযানের পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজের আমদানি বাড়াতে বেশি জোর দেওয়া উচিত। যদিও চট্টগ্রাম-কঙবাজারের ১৬ ব্যবসায়ী চক্র পেঁয়াজের বাজার অস্থির করছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদের কারসাজি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শাস্তির একটা নজির স্থাপন করতে হবে।
সব মিলিয়ে পেঁয়াজ ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ যতটা ক্ষতির সম্মুখীন, ততটা বিব্রত সরকার। এ বিষয়টা সরকারের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করছে। অন্যদিকে, পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবহেলা প্রত্যক্ষ করেছে সাধারণ মানুষ। শুরু থেকেই তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় নি বিষয়টাতে। ফলে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা ভীতিকর ও ভয়ঙ্কর।
সরকারের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ভতুর্কি দিয়ে হলেও অস্থিতিশীল বাজারকে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
গতকাল দৈনিক আজাদীর প্রথম পাতায় একটা ছবি ছাপা হয়: ‘খাতুনগঞ্জে আড়তের বাইরে পড়ে আছে বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ’। দেশে পেঁয়াজের তীব্র সংকট। আর আড়তদার গুদামজাত করে রাখতে গিয়ে পচে যায় সব পেঁয়াজ। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

x