পেঁয়াজের লাগাম ধরবে কে?

পাইকারিতেই সেঞ্চুরির কাছাকাছি

জাহেদুল কবির

সোমবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ
45

পেঁয়াজের বাজারের অস্থিরতা যেন কাটছেই না। গত মাসের শেষের দিকে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর ৩০ টাকার পেঁয়াজ কয়েকগুণ বেড়ে শতকের ঘরে চলে যায়। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু গতকাল রোববার থেকে আবারও সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বাজার। পাইকারি বাজারের লাগাম টেনে ধরতে প্রশাসনের অভিযানও নেই। তাই পেঁয়াজের বাজারের ঊর্ধ্বগতি থামাবে কে, এমন প্রশ্নই রাখছেন ভুক্তভোগী ভোক্তা সাধারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাক্তাই খাতুনগঞ্জে গতকাল ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকায়। এছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজিতে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মিশরের পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা দিলেও বরাবরের মতোই পেঁয়াজটির চাহিদা নেই বলছেন তারা।
আমদানিকারকরা জানান, বর্তমানে পেঁয়াজের বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ সংকটের কারণে মূলত বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এখন পেঁয়াজের দর বাড়ছে বলেই অনেকেই কারসাজি কিংবা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তুলছেন। প্রকৃতপক্ষে যখন ভারতের বাজার খোলা ছিল তখন পেঁয়াজের দাম কখনোই কেজিতে ৩০ টাকার বেশি হয়নি। আমাদের দেশে আমদানি পেঁয়াজের সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। ফলে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার কারণেই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খাতুনগঞ্জের হামিদ উল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস দৈনিক আজাদীকে বলেন, বর্তমানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজ আসছে তার অর্ধেকই আবার নষ্ট পড়ছে। তাই পেঁয়াজের দামও বেশি। বাজারের ধর্মই এমন, চাহিদার সঙ্গে যোগানের পার্থক্য বেশি হয়ে গেলে দাম বেড়ে যায়। আজকেও (গতকাল) খাতুনগঞ্জে ৩০ ট্রাক পেঁয়াজ প্রবেশ করে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক ব্যবসায়ীর গুদামে পেঁয়াজ নাই। সরবরাহ না থাকলে আমাদের কি করার আছে?
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থল বন্দরের আমদানিকারক এবং জারিফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মনজুর মোরশেদ জানান, বর্তমানে মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজ আসছে তার ৬০ শতাংশই নষ্ট। পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার পেছনে টেকনাফ বন্দর কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি আছে। কারণ কর্তৃপক্ষ চলমান শ্রমিক সংকটের কোনো সুরাহা করেনি। আমরা বিভিন্ন সময় শ্রমিক সংকটের সমাধানের কথা বলে আসছি। গত তিনদিন ধরে আমার একটি ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় আছে। ঠিক সময়ে খালাস না হলে অনেক পেঁয়াজ বস্তায় পচতে থাকে। সমস্যা হলো পচা পেঁয়াজের সংস্পর্শে ভালো পেঁয়াজগুলোও নষ্ট হতে শুরু করে। দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা না হলে বাজার কখনো নিয়ন্ত্রণে আসবে না। উল্টো দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভোক্তারা জানান, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলছে। তবে আসলেই সরবরাহ সংকটের কারণে বাড়ছে নাকি ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে বাড়াচ্ছে, সেটি তদারকি হচ্ছে না। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযানও নেই। প্রশাসন যদি অভিযান না চালায় তাহলে পেঁয়াজের বাজার মনিটরিং করবে কে? কে থামাবে বাজারের ঊর্ধ্বগতি?
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় পাইকারিতে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৯৫ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পরবর্তীতে প্রশাসন অভিযানে নামলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমে আসে।

x