পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সড়ক বন্ধ, দুর্ভোগ

ঋত্বিক নয়ন

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ

ফিরিঙ্গিবাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে অসুস্থ স্ত্রীকে সাথে নিয়ে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে যাচ্ছিলেন স্কুলশিক্ষক রনজন কুমার নাথ। কোতোয়ালী মোড়ে আসতেই পুলিশ সিগন্যাল দিয়ে থামায় তাঁদের অটোরিকশাটি। সড়ক বন্ধ -এ কারণ দেখিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেয়া হয় সিএনজি অটোরিকশা থেকে। গাড়ি থেকে নেমে দেখেন, লাইন ধরে একের পর এক থামানো হচ্ছিল সবকটি যানবাহন। কারণ, সকাল থেকেই কোতোয়ালী হয়ে লালদিঘি-আন্দরকিল্লার পথে বন্ধ করে দেয়া হয় যান চলাচল। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন রনজন কুমারের মতো অসংখ্য মানুষ। এর মধ্যে লালদীঘি ময়দানে যেতে থাকে একের পর এক মিছিল। মিছিলের গগণবিদারি স্লোগান আর শত শত লোকের ভেতরেই অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটতে থাকেন রনজন কুমার। এমন চিত্র গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন সড়কে। লালদীঘি ময়দান আর আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে বন্ধ করে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি সড়ক। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের, যেখানে শুধু অফিসগামী লোকজনই নয়, ছিলেন স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। এসময় অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে হঠাৎ করে সড়ক বন্ধ করে এত কষ্ট দেয়া কেন?
গতকাল সকালে নগরীর লালদিঘি ময়দানে ছিল উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে লালদিঘির আশেপাশের এলাকায় সকাল থেকেই সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। আশপাশের সড়কগুলো দিয়েও যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ফলে এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এমনিতেই অত্যধিক যানবাহনের চাপ, স্বল্প পরিসরের রাস্তা, ফুটপাত দখল, এখানে ওখানে রাস্তা দখল করে গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে উঠা, একের পর এক প্রতিষ্ঠানের রাস্তা খোঁড়াখুড়ি, ট্রাফিক বিভাগের জনবল সংকটসহ নানাবিধ কারণে শান্তির নগরী চট্টগ্রাম পরিণত হয়েছে অশান্তির নগরীতে। আর এর সাথে নাগরিক যন্ত্রণা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ। গতকাল উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবং কাউন্সিল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কমতি ছিল না। স্কুল কলেজ পড়ুয়া এবং অফিসগামী মানুষের চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। একই সাথে ফিরে আসার সময়ও অবস্থা ছিল কাহিল। এর প্রভাব সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়। এমন যানজটের কারণে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।
পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যরা বলেন, কর্মসূচির জন্য সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে লালদিঘী এলাকায়। পরে খুলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও দফায় দফায় মিছিল আসতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সমাবেশ চলাকালে। এতে সিনেমা প্যালেস, বঙিরহাট, জেল রোড এবং কোতোয়ালীর মোড়ে একাধিক রিকশা, বাস ও সিএনজির যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে যায়। এসব গাড়িগুলোতে ছিল স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। বাস-মিনিবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে আটকা পড়া যাত্রীরা এসময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন। বিকেল তিনটার দিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় খুলে দেওয়া হয় উভয় পাশের রাস্তা।
কিন্তু ততক্ষণে কাজীর দেউড়ি মোড়ে ভিআইপি টাওয়ারের সামনে থেকে আলমাস সিনেমার মুখ পর্যন্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এর ফলে নগরীর ব্যস্ততম কাজীর দেউড়ি এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় সংঘাতের আশঙ্কায় দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। ওই সড়ক দিয়ে পথচারী চলাচলেও পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়। সড়কে রোড ডিভাইডার দেওয়ায় সড়কগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘাতের আশঙ্কায় সড়ক বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন আজাদীকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক ভাবে রাস্তা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি আমরা। প্রায় ৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল পুরো এলাকায়। এর মধ্যে ২০০ পুলিশ ছিল মূল কাউন্সিলস্থলে।
জানা গেছে, পুলিশের নির্দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হয় অ্যাপোলো শপিং সেন্টার এবং ভিআইপি টাওয়ার মার্কেট। ভিআইপি টাওয়ারের আবাসিক বাসিন্দাদেরও চলাচলে বাধা দেওয়া হয়।
কাজীর দেউড়ি ও আলমাস মোড়ের পুলিশের বেস্টনীর দুপাশে অবস্থান নেন বিভিন্ন নেতার পক্ষে আসা হাজার হাজার নেতা কর্মী। বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এই সম্মেলনের কারণে নগরীর কাজীর দেউড়ি, ওয়াসার মোড় ও চট্টেশ্বরী সড়কে দুপুর ২টা থেকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ব্যস্ততম সড়কগুলো হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। ট্রাফিক পুলিশের কাছে অনেকে আকস্মিক সড়ক বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাইছেন। অনেককে দেখা গেছে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়াতে। এমনিতেই নগরীতে হঠাৎ করে যেমন গাড়ি বেড়ে গেছে, তেমনি বেড়েছে যানজট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিসগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীগণ যানজটের কবলে পড়ে রাস্তায় অলস সময় অতিবাহিত করছেন।

x