পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা

মোটরসাইকেল তল্লাশির ঘটনা

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ৭ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ
1444

নগরীতে মোটরসাইকেলের কাগজ তল্লাশিকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে সরকারি লোক পরিচয় দিয়ে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে পুলিশ সার্জেন্ট ও ছাত্রলীগ কর্মীর মধ্যে।
গতকাল বিকেলে চকবাজার থানাধীন অলি খাঁ মসজিদ মোড়ে ট্রাফিকের অস্থায়ী চেকপোস্টের সামনে এঘটনা ঘটে। এতে আশাপাশের বিভিন্ন সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এব্যাপারে চকবাজার থানার ওসি নেজাম উদ্দিন আজাদীকে বলেন, সেখানে
মোটরসাইকেলে তল্লাশিকালে উভয়পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। মামলার সিলিপের কাগজ ছিঁড়ে ফেলা হয়। এগুলো ছাড়া বড় ধরনের কোন ঝামেলা সেখানে হয়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সার্জেন্টের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করতে এসেছিল। কিন্তু পরে তারা এসে পুরো বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অলি খাঁ মসজিদ মোড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের চালককে গাড়ি থামাতে সংকেত দেন পুলিশ সদস্য সাইফুদ্দিন। তখন মোটরসাইকেলে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষে পড়ুয়া একজন ছাত্র ছিলেন। গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশিকালে দেখা যায়- তার গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ও লাইসেন্স নেই। সাইফুদ্দিন বিষয়টি সার্জেন্ট আরিফ হোসেনকে জানানোর পর তিনি মামলা লিপিবদ্ধ করা শুরু করেন। এসময় ওই ছাত্র ফোন করে ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ মল্লিক সবুজের সাথে পুলিশ সদস্য সাইফুদ্দিনকে কথা বলিয়ে দেন। পরে সুভাষ মল্লিকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে ট্রাফিক সার্জেন্ট আরিফের হাত থেকে সেই মামলা লিপিবদ্ধ করা কাগজ নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। ঘটনাটি দেখে পাশেই চায়ের দোকানে বসা কয়েকজন এসে দুই সার্জেন্টকে দোকানের ভেতরে টেনে নিয়ে যান। তখন সবুজের সঙ্গে আসা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান। এব্যাপারে সুভাষ মল্লিক জানান, হঠাৎ একজন পুলিশ অফিসার আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আগে শিবির করত, এখন ছাত্রলীগ। এ ধরনের কথা শোনার পর আমি আর মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। ছোট ভাইদের নিয়ে তখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এসময় সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে আমরা সরি বলেছি। জানা গেছে, একপক্ষ নিজেদের সরকারি লোক, অন্যপক্ষ নিজেদের সরকারি দলের লোক পরিচয় দিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

x