পুনরাবৃত্তি এড়াতে এনবিআরকে কাস্টমসের চিঠি

প্রতারণার শিকার তিন তরুণ

জাহেদুল কবির

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
141

সরকারি চাকরিতে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া নতুন ঘটনা নয়। তবে গত রোববার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে যোগদান করতে আসা তিন তরুণের কাহিনী চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়েছে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিয়োগ পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, ডাক্তারি পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরির সব নিয়ম মেনে তিন তরুণের হাতে কাস্টমস কমিশনারের জাল সইসহ নিয়োগপত্র তুলে দেয়। তবে এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর আগে প্রতারণার শিকার তিন তরুণ প্রতারক চক্রের হোতাদের শাস্তি চেয়ে কাস্টমস কমিশনারের কাছে আবেদন করেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে এর আগেও কয়েকজন তরুণ চট্টগ্রাম কাস্টমসে যোগ দিতে এসেছিল। তবে আমরা তো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা না। গত রোববার কাস্টমসে যোগ দিতে আসা তিন তরুণ আমাদের কাছে এসে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে জানান। পরে তারা প্রতারক চক্রের সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করেন। তাই আমরা এনবিআর বরাবর চিঠি লিখেছি, যাতে প্রতারকচক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। আমরা চিঠিতে লিখেছি, প্রতারণার ঘটনাটি পুলিশ, র‌্যাব, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আনা হোক। কারণ আমরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দেয়া চিঠিতে তিন তরুণ উল্লেখ করেন, আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক প্রতারক তাদেরকে কাস্টমসে চাকরি দেয়ার কথা বলে তিনজনের কাছ থেকে মোট ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার ৮ সেপ্টেম্বর লালমনির হাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার পূর্ব বেজগ্রামের কৃষ্ণ কান্ত চক্রবর্তীর ছেলে মিলন চক্রবর্তী, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার বোয়ালিয়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং একই থানার ওফাপুর গ্রামের আকিমুদ্দীনের ছেলে আবদুল গফুর নিয়োগপত্র নিয়ে কাস্টমসে যোগ দিতে আসেন। কিন্তু কাস্টমস কমিশনারের একান্ত সহকারীর রুমে ঢুকে জানতে পারেন, তাদের নিয়োগপত্রগুলো ভুয়া। কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে প্রতারণার শিকার মিলন চক্রবর্তী জানিয়েছে, সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়েছে প্রতারক আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া একই পদের জন্য সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা এবং অফিস সহায়ক পদে আবদুল গফুরের কাছ থেকে নেয় ১১ লাখ টাকা।

x