পুতুল বাড়ি ভূতের বাড়ি

আরিফ রায়হান

বুধবার , ২০ মার্চ, ২০১৯ at ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
427

ভূতের নাম শুনলে কার না বুকে কাঁপুনি ধরে? যিনি ভূত-টুত একেবারেই বিশ্বাস করেন না, এগুলো কেবল নিছক মনের ভয় বলে উড়িয়ে দেন, কোন একসময় একাকী গভীর রাতে নির্জন অন্ধকারে তিনিও কাবু হয়ে যান ভূতের ভয়ে। আসলে ভূত পেত্নীর কবলে কেউ না পড়লেও এসবের ভয় কাজ করে সবার মাঝে। এবার বলছি কলকাতার এক ঐতিহাসিক ভুতুড়ে বাড়ির কথা। যে বাড়ির নাম পুতুলবাড়ি। আসলে পুতুল বাড়ি হচ্ছে কলকাতার সবচেয়ে রহস্যময় ভুতুড়ে স্থান।
জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এখনকার সময়ের মতো মসৃণ সড়ক পথ ছিল না। তখন জলপথ ছিল প্রধানতম পথ। সেই সময় কলকাতার ঘাটে ঘাটে চাল, মশলা, পাট ইত্যাদির পসরা দিয়ে বজরা, নৌকা এসে থামতো। এমনই একটি খুব পরিচিত ঘাট ছিল আহিরীটোলা। এর আশেপাশেই ছিল অনেক গুদামঘর ওয়ালা বাড়ি। যেখানে নিরাপদে মালপত্র সংরক্ষণ করা হতো। এই পুতুলবাড়ি ছিল সেই রকম একটি গুদামঘর ওয়ালা বাড়ি। এটি ১৮০০ সাল কিংবা তারও আগে নির্মিত হয়েছিল। এরপর প্রায় পৌণে একশত বছর এটি গুদামবাড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। রোমান স্থাপত্যশৈলীতে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়ির চেহারা এখন বেশ বদলে গেছে। স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়েছে। বাড়ির ভিতরে পুতুলরূপে অতৃপ্ত আত্মার ঘুরে বেড়ানোর গল্প বলে এখনো মজা পায় কলকাতার লোকজন।
কলকাতার পুতুল বাড়িকে ঘিরে নানা নানা গুজব রয়েছে। রয়েছে গা শিহরণ করা নানা ভৌতিক কাহিনী। অনেক আগে থেকেই শোনা যায় পুতুল বাড়িতে ভূতের উপদ্রবের কথা। মূলত ইংরেজ শাসনামলে বেশি করে রটে যায় ওই বাড়িতে ভূতের আনাগোনার বিষয়টি। কেন এই বাড়িতে ভূতের এতো উপদ্রব সে বিষয়ে জানা যায়, উনিশ শতকের শুরুর দিকে এ বাড়ির মালিকানা ছিল ধনী বাবুদের। বাবু সাহেবরা এ বাড়িতে লোকজনকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন, প্রাণে মেরেছেন। তাদের এই অপরাধ থেকে বাদ যেত না কেউ। এই অত্যাচার ও জীবনহানি পুরো বাড়ির পরিবেশকে ভয়ার্ত করে তুলতো। তাদের নির্মমতার শিকার লোকদের চিৎকার ও গগণ বিদারী আকুতি প্রতিধ্বনিত হতো বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে। দীর্ঘ বছর পর একসময় ধনকুবের বাবুদের হাতছাড়া হয়ে যায় বাড়িটি। এরপর বাড়িটিতে আর কেউ শান্তি পায়নি। যারাই এই বাড়িতে এসেছে তারাই ভূতের উপদ্রবের শিকার হয়ে পালিয়েছে।
এই বাড়িতে কান্নার শব্দ শুনেছে অনেকে। তাদের মতে, পুতুলরূপী কিছু ছায়া এ বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। অনেকেই এদের বলেছেন, অতৃপ্ত আত্মা। কালে কালে কতকাল পার হলো কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে মধ্যরাতে সেই কণ্ঠের অশরীরীদের কান্নার শব্দ শোনা যায়। ভয়ংকর এই পুতুলবাড়ি নিয়ে রহস্য আজও সবার মুখে মুখে। বাংলা সাহিত্যে পুতুলের বাড়িটি নিয়ে সত্যজিৎ রায় ও লিলা মজুমদার ভয়ঙ্কর গল্প লিখেছেন।
গা শিহরণ করা পুতুল বাড়ির জীর্ণ পরিবেশ বলে দেয়, ভূতদের জন্য এই বাড়িটিই উত্তম জায়গা। বাড়ির প্রবেশমুখে দেখা যাবে ঝুলানো একটা নোটিশ। তাতে লেখা আছে ‘কঠোরভাবে প্রবেশ নিষেধ’। এরপর আর একটি লেখা চোখে পড়বে ‘অযথা গুজবে কান দেবেন না। সামাজিক যোগাযোগের ভ্রান্ত খবরে বিভ্রান্ত হবেন না। ভূত সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ব্যাপারে জানতে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করবেন না’।

x