পিতার নাম শেখ মুজিব

আহমেদ মাওলা

শুক্রবার , ২০ মার্চ, ২০২০ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
60

পৌষের কুয়াশামাখা সকাল।
এসময় পাড়াগাঁর জীবন শীতে হু হু করে কাঁপে। হিম-ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে মা-ছেলে পথে নামে। লালন এবার ছয় বছরে পা দিয়েছে। আর তো ঘরে বসিয়ে রাখা যায় না। তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। মা তাহেরা বেগমের বড় সাধ, ছেলেকে স্কুলে পড়াবে। বাড়ি থেকে দেড় মাইল দূরে জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল স্কুল। তাহেরা বেগম তাড়া দিয়ে বলে-
: বাবা লালন, পা চালিয়ে হাঁট, শীত কম লাগবে।
গ্রামের সরু রাস্তা কুয়াশায় আধভেজা। ছেলের হাত ধরে তাহেরা বেগম যখন স্কুলের গেটে পৌঁছে, সূর্য তখন কপালে। ছোট ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলছে। মাঠের এককোণে বটের ছায়ায় এলোমেলো দাঁড়িয়ে আছে কিছু ছেলেমেয়ে। বারান্দায় উঠে তাহেরা বেগম কোনদিকে যাবে, প্রথমে বুঝতে পারে না। এসময় বুড়ো দপ্তরি রামপদ এগিয়ে আসে। তাহেরা বেগম হেডমাস্টারের সাথে দেখা করতে চায়। দপ্তরি রামপদ তাদের প্রাইমারি স্কুলের অফিস রুমে দিকে নিয়ে যায়।
হেডমাস্টার রফিকুল ইসলাম ছাত্র ভর্তির শুনে একটা ফরম বের করে নাম ঠিকানা লিখতে শুরু করে।
: নাম কি?
: লালন।
তাহেরা বেগমের মুখের দিকে তাকিয়ে হেডমাস্টার জিজ্ঞেস করে-
:আগে-পিছে ‘আহমদ’ ‘মোহাম্মদ’ কিছু নেই?
তাহেরা বেগম কিছু বলে না, চুপ করে থাকে। সাং দেবরামপুর, পো: নালিহুরি, জেলা:..
ছাত্রের নাম ঠিকানা লেখা হলো। বাপের নামের ঘরে এসে হেডমাস্টার একটু থামে। লালনের দিকে একবার তাকায়। ছয় বছরের লালনের মুখে শীতের শ্রীহীন শুষ্কতা।
: বাপের নাম কি?
মাথা নিচু করে বসে থাকা তাহেরা বেগমের চেহারা তখন বিবর্ণ, পোড়া কয়লার মতো কালো হয়ে আছে। তার মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হয় না। হেডমাস্টার তখন খ্যাকিয়ে ওঠে-
: বাপের নাম বড় দরকারি জিনিস বুঝেছ? বাপের নাম ছাড়া দুনিয়ার কিছু চলে না। বাপের নাম কী লিখবো বল-
মা তাহেরা বেগম ততক্ষণে ছেলেকে হাত ধরে টেনে স্কুলঘর থেকে নেমে পথে চলতে শুরু করেছে। হাঁটা দিয়েছে জোর পায়ে বাড়ির দিকে। শিশু লালনের মাথায় হেডমাস্টারের প্রশ্নটা ঘুরপাক খায়। মা হাঁটছে তার হাত ধরে। তাকেও মায়ের সাথে ছুটতে হচ্ছে। মধ্য পথে গিয়ে ছেলে মাকে জিজ্ঞেস করে-
: মা আমার বাপের নাম কি?
হাঁটা হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে মা তাহেরা বেগম ভাষাহীন চোখে ছেলের মুখের দিয়ে চেয়ে থাকে। মায়ের চোখে আগুনের মতো ক্রোধ ফেটে পড়ছে। হঠাৎ ভয় হয় লালনের। বাপের কথা জানতে চাওয়ায় মা কী খুব রাগ করেছে? রাস্তায় ছেলের কথার কোনো উত্তর দেয়নি তাহেরা বেগম। বাড়িতে এসেও মা তাহেরা বেগম বড় চুপচাপ, নিষ্পন্দ কাঠের মতো বসে থাকে।
সন্ধ্যা বেলায় নানা মতি ব্যাপারি গঞ্জের হাট থেকে বাড়ি ফেরে। নাতির জন্য আনে আমিত্তি, গজা। লালন আমিত্তি খেতে খুব পছন্দ করে। নানার পাশে বসে আমিত্তি খেতে খেতে বলে কত কথা বলে। বিকেলে সে খেলতে গিয়ে ছিল। মার্বেল খেলায় চালে ভুল হওয়ায় দক্ষিণ বাড়ির রুবেল তাকে ‘খানের পোলা’ বলে গালি দিয়েছে। আরেকদিন মুনশিবাড়ির ফজুর মা তার গায়ের রং, বাদামি চোখের তারা দেখে বলেছে, ঐ দেখ দেখ পাকিস্তানি খান সেনাদের মতো অবিকল চেহারা ‘জাউড়া পোলা’।
‘জাউড়া’ কি, নানা?
মতি ব্যাপারি নাতি লালনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, উত্তর দেয় না। এর উত্তর আসলে মতি ব্যাপারিও জানা নেই। লালনের প্রশ্নের কি উত্তর দেবে সে?
স্ত্রী গত হয়েছে অনেক আগে। একমাত্র ছেলে কাশেম যুদ্ধের প্রথমদিকে যোগ দিয়েছিল মুক্তিবাহিনীতে। আর ফিরে আসেনি। শূন্য বাড়িটা খা খা করে। বাড়িতে তার মন টেকে না। ক্ষেতে খোলায় কাজ না থাকলে মতি ব্যাপারি শিমুলতলীর হাটেই পড়ে থাকে। বাজারে নানা কিসিমের মানুষ দেখে। রশিদের চা দোকানে বসে আড্ডা দেয়, চা খায়। স্ত্রীর মৃত্যু শোক, একমাত্র ছেলে কাশেমকে হারানোর শোক ভুলে থাকতে চায়। বাজারে মানুষের আনাগোনা, ভীড়ভাট্টা দেখে সময়টা কেটে যায়। গভীর রাতে বাড়ি ফেরার সময় কখনো কখনো খোলা মাঠের হঠাৎ হাওয়ার ঢেউ বুকে লাগলে ভেতরের হা হা শূন্যতা তাকে কোথায় নিয়ে যায়। তখন ঘর-বাড়ি, দেশ-দুনিয়া সব তুচ্ছ মনে হয়। মনটা উদাস হয়ে যায়। সবকিছু ছেড়ে-ছুড়ে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। মনে কেবল বাজতে থাকে হাছন রাজার সেই গানটা-
লোকে বলে, বলে রে
ঘরবাড়ি ভালা নায় আমার
কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাজার।।
লোকে বলে বলে রে..
একাত্তরের ডিসেম্বর মাস, তারিখটা মনে নেই। উত্তর কান্দির ক্ষেতে আগাছা নিড়ানি দিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা। আলো-আঁধারীতে মতি ব্যাপারী বাড়ি ফিরে দেখে, বারান্দায় পোয়াতি একটা মেয়ে মানুষ
প্রসব বেদনায় কাতরায়। মতি ব্যাপারী সাঁঝ- অন্ধকারে ডাক দেয়-
: তুমি কে? কোত্থেকে আইছো ? বাড়ি কই তোমার ?
মাইয়া মানুষ জবাব দেয়না। খালি কান্দে আর কান্দে। কুপি বাতি জ্বালিয়ে মুখটা দেখার চেষ্টা করে একবার। ময়লা শাড়ির ফাঁকে কেবল অশ্রুভেজা দু’টি চোখ নজরে আসে। নাকে নাকফুল না থাকায় কেমন যেন বিধাব নারীর মতো মুখটা করুণ মনে হয়। প্রসব যন্ত্রণা মুখটা নীল হয়ে আছে। একবার দেখেই মতি ব্যাপারীর বুকটায় হাহাকার করে ওঠে। গ্রামের দক্ষিণ মাথায় ফিরোজা দাই থাকে। দাই বাড়ির দিকে ছুটে যায় সে। আশপাশের পাঁচগ্রামের পোয়তী মায়েদের এই ফিরোজা দাই বিপদের সময়ের একমাত্র ভরসা। শিমুলতলীর হাটে একজন কবিরাজ বসে। তাকে সবসময় পাওয়া যায় না। থানা সদর ছাড়া কোথাও পাশকরা ডাক্তার নাই। থানা সদর দেবরামপুর থেকে পাঁচ মাইল দূরে। সেখানে রুগী নিয়ে যেতে হয় খাটিয়ায় তুলে। চারজন লোক যোগাড় করতে হয়। মেলা ঝামেলা। দাই বাড়ি পৌঁছে মতি ব্যাপারী দেখতে পায়, ফিরোজা দাই বিছানায় শুইয়ে বাতের ব্যথায় কাঁতরায়। ছেলের বৌ তার কোমরে আকন্দ পাতার ছেঁক দিচ্ছে। মতি ব্যাপারী দম ফেলার সুযোগ দেয় না। বলে-
: ফিরোজা বু, আমার ভিটায় একটা মেয়েমানুষ প্রসব যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে, তুমি এক্ষণি চল, দেরি করলে মাইয়া মানুষটা বড় কোনো ক্ষতি হইয়া যাইবো। তোমার দু’টো পায়ে পড়ি, তুমি এক্ষণি চল।
ফিরোজা দাই ধরাগলায় জবাব দেয়-
: হামি বাতের ব্যথায় নড়তে পারিনা, আর তুমি বলো..
তার মুখ থেকে যেন কথা সরে না। মতি ব্যাপারী আবারও অনুনয় করে বলে-
: এই মানুষটারে বাঁচাইতে হইবো। তুমি চলো ফিরোজা বু..
মতি ব্যাপারী বুঝতে পেরেছে, কথায় আর কাজ হবে না। ফিরোজা দাইকে কাঁথাসহ পিঠে তুলে দে দৌড়। এক দৌড়ে একেবারে বাড়ির উঠোনে এনে নামায়। অচেনা পোয়াতী মেয়েমানুষটা ঘরের বারান্দায় পাতা বিছনায় পড়ে চিৎকার করে-‘ওরে মা গো..মা
কে তার মা ? কোথায় তার মা ?
চরাচরে কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। তার চিৎকারে মাটি ফেটে চৌচির। আকাশে মেঘের তোলপাড়। বাতাসে তুমুল প্রবাহ। সমুদ্রের বিক্ষুব্ধ ঢেউ আচড়ে পড়ে কূল ভাঙে। একটি শিশু মায়ের জঠর থেকে ভূমিষ্ঠ হলো। মতি ব্যাপারীর ভিটে নবজাতকের প্রথম কান্নায় রাতের নীরবতা ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। ফিরোজা দাই আনন্দ বিগলিত কণ্ঠে বলে-
: মতি ভাই, মতি ভাই, ছেলে হইছে!
এক গামলা গরমপানি নিয়ে মতি ব্যাপারী ফিরোজা বু’ হাতে দেয়। বলে-
:সাবধানে ধরো ফিরোজা বু, গায়ে পড়বো!
দু’জন মানুষের শুশ্রূষায় বিপদ কেটে যায়। স্বস্তি ফিরে আসে মতি ব্যাপারীর মনে।
তারপর থেকে তাহেরা বেগম মতি ব্যাপারীর ভিটায় আছে। ষাটোর্দ্ধ মতি ব্যাপারী এখন বয়সে ভারে একটু কুঁঝো হয়ে হাঁটে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাবা পরিচয়ে পাওয়া সরকারি কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমায়। বহুদিন পর মতি ব্যাপারীর বিরান ভিটায় শিশুর কান্না-হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। আবেশে মায়ের চোখ বন্ধ হয়ে আসে। মতি ব্যাপারী আদর করে নাম রাখে লালন। তাহেরা বেগমের সন্তান ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। হেঁটে বেড়ায় উঠোনময়। শিমুলতলীর হাট থেকে মতি ব্যাপারী লাল ঝুমঝুমি এন দেয়। উঠোন পেরিয়ে ন্যাংটো লালন বাড়ির দহলিজে চলে আসে। মতি ব্যাপারী নাতির মুখে চান্দের আলো দেখতে পায়। লোলা ঝরা মুখে চুমা দিয়ে আদর করে বলে-‘বড় হ নানা ভাই।’
সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশে স্বজন হারানো শোক, দুঃখ দারিদ্র, অস্থিরতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিব্ধস্ত দেশকে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। প্রতিবিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে গঠিত হয় জাসদ। জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল, তারা বৈজ্ঞনিক সমাজ তন্ত্রের স্বপ্ন দেখায়। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের কাছে রয়ে গেছে অস্ত্র। দেশজুড়ে ভয় আর ত্রাস। গ্রামের লোকেরা জিগেস করে-‘মতি ব্যাপারীর ঘরে মেয়েমানুষটা কে ?
তাহেরা বেগমের মুখে রাও নাই। সারেং বাড়ির লতিফ খোনকার একদিন লালনকে কোলে দেখে মতি ব্যাপারীকে প্রশ্ন করে-
: ‘এই পোলার বাপ কে ?’ পোলার গায়ের রংটা তো তোমার মতো নয়! টকটকে ফর্সা,পাকিস্তানি খান সেনাদের মতন।’
মতি ব্যাপারী তখন বিত্তান্ত বলে-
: নয় মাসের যুদ্ধ গ্যালো, আমার একমাত্র ছেলে যুদ্ধ থেকে ফির‌্যা আইলো না। খান সেনারা কতো মেয়ের সর্বনাশ করেছে! যুদ্ধের সময় প্রায় ছয় মাস শুয়োর খান সেনারা তাহেরার ওপর দখল নিছে। শত্রুর বিষবীর্যের ফসল এই লালন আমার নাতি। আমার হারিয়ে যাওয়া পুত্র কাশেমের বদলে পাইছি। সবাই পাইছে দেশ, আমি কুড়াইয়া পাইছি এই ধন। একনাগাড়ে কথাগুলো বলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মতি ব্যাপারী।’
লতিফ খোনকার কিছু বলে না, মতি ব্যাপারীর মুখজুড়ে ঝরা পতার বিষন্নতা দেখে তারও দিল নরম হয়ে ওঠে।
খেলতে গেলে আশপাশের বাড়ির ছেলেমেয়েরা কারণে- অকারণে লালনকে ‘খানের পোলা’ বলে খেপায়। লালন বুঝতে পারে না, কেন সবাই তাকে ‘খানের পোলা’ বলে। নানার লাল গরুটা এবার বাছুর দিয়েছে। এঁড়ে বাছুরটা দৌড়ে একবার পুকুর পাড়ের দিকে যায়, আবার লাল গাইয়ের কাছে ফিরে আসে। বাছুরটা দূরে গেলে লাল গাইটা হাম্বা করে ডাকে। গলায় বেঁধে দেয়া শামুকের মালার শব্দ তুলে বাছুরটা দৌড়ে ফিরে আসে মায়ের কাছে। এঁড়ে বাছুরের এই দৌড়াদৌড়ি খেলায় লালন খুব মজা পায়। বিকেলে রোদ পড়ে এলে নানা লাল গাইটা চরাতে নিয়ে যায় রাস্তার দিকে। তখন লালনও নানার সঙ্গী হয়। দুধেল গাইটা রাস্তার পাশের তাজা ঘাস ইচ্ছে মত খায়। লালন নানাকে প্রশ্ন করে, আচ্ছা নানা ছেলেরা আমাকে ‘খানের পোলা’ বলে খেপায় ক্যান ? ‘খানের পোলা’ কী খুব খারাপ কিছু ?
তারপর সে গতকাল মা তাহেরা বেগমসহ স্কুলে যাওয়ার ঘটনা বলে। স্কুলেও হেডমাস্টার বাপের নাম কি ?
জিজ্ঞেস করলে মা তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসে কান্না করেছে। লালনের মুখে বিত্তান্ত শুনে মতি ব্যাপারী মনের ভেতর একশটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার জেগে ওঠে। পরদিন নাস্তা শেষ করে তাহেরা বেগমকে বলে-
: আমার নাতিরে জামাকাপড় পরিয়ে দাও । ওরে আমি স্কুলে ভর্তি করাইমু।
তাহেরা বেগম গতকালের অভিজ্ঞতা থেকে বলে-
: বাবা, আমি স্কুলে ভর্তি করাইতে গেছিলাম। হেডমাস্টার কইছে, বাপের নাম ছাড়া স্কুলে ভর্তি হন যায় না।
মতি ব্যাপারীর বুকের ভেতর তুমুল ঝড় বয়ে যায়। সে ঝড়ের অভাষ তার চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়ে। খনখনে গলায় মতি ব্যাপারী বলে-
: আমি ওরে ক্যামনে স্কুলে ভর্তি করাই চাইয়া দেইখো।
নাতি লালনকে নিয়ে মতি ব্যাপারী স্কুলের দিকে রওয়ানা দিলে তাহেরা বেগম বলে-‘আমিও তোমাদের সঙ্গে যাবো। হেডমাস্টারের রুমে ঢুকে লালনকে ভর্তির কথা বলে মতি ব্যাপারী। হেডমস্টার চেয়ে দেখে, গতকালের সেই মহিলা, সঙ্গে সেই ছেলেটি। হেডমাস্টার রফিকুল ইসলাম কিছুটা বিদ্রুপের সুরেই বলে-‘ওরা তো গতকাল এসেছিল। বাপের নাম কি? জিজ্ঞেস করায় চলে গেছে।’
মতি ব্যাপারীর চোখে গনগনে আগুন বেরুচ্ছে। তাহেরা বেগম দৃঢ় গলায় বলে-
: পিতার নামের জায়গায় লেখেন ‘শেখ মুজিবুর রহমান’। শেখ মুজিব কইছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা ইজ্জত হারানো মা-বোনেরা বীরঙ্গনা। যে সব শিশু পিতৃ পরিচয়হীন জন্ম নিয়েছে, ‘ওদের বলে দাও পিতার নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং বাড়ির ঠিকানা ধানমণ্ডি ৩২।’