‘পিএ’ এজাজকে দুদকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে : দুদক সচিব

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২০ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠা নূর উর রশীদ চৌধুরী ওরফে ‘পিএ’ এজাজ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। এজাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ব্যবসা এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এজাজ পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। জিজ্ঞাসাবাদের কারণ জানতে চাইলে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এজাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সে কারণেই তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’ দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমরা এজাজ চৌধুরীকে ডেকেছিলাম তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য। আমরা ডেকেছি। মঙ্গলবার (গতকাল) সারাদিন এজাজ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগের সবগুলো বিষয় আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি।’
দুদক সূত্র জানায়, এজাজের পাশাপাশি তার পিতা আবদুল মালেক প্রকাশ মালেক চেয়ারম্যান, এজাজের স্ত্রী সুরাইয়া আকতার, বড়ভাই সুলতান উর রশীদ চৌধুরীর সম্পদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি তাদের সম্পদের খোঁজ নিতে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, বিআরটিএতে পত্র দিয়েছে দুদক।
দুদকের একটি সূত্র জানায়, গত ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এজাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ নম্বর ১৮১/২০১৯। অভিযোগে এজাজকে পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরীর পিএ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাজের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয় গত নভেম্বরে। শুরুতে সিদ্ধান্ত ছিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম অভিযোগ অনুসন্ধান করবে। পরে অভিযোগের ব্যাপ্তি বিবেচনায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নির্দেশে দুদক প্রধান কার্যালয় এজাজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
নগরীর টেরি বাজারে ‘ফেমাস শপিং মল’ নামের একটি অভিজাত বিপনীর কথা উল্লেখ রয়েছে অভিযোগে। যেটির বাজারমূল্য আড়াই কোটি টাকার বেশি। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে এবং ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে স্ত্রীসহ নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে অভিযোগে। পটিয়ার হরিণখাইনে নিজের গ্রামের বাড়িতে রাজকীয় তোরণ নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে অভিযোগে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি দৈনিক আজাদীতে ‘পিএস এজাজের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ১৪ জানুয়ারি এজাজ চৌধুরীকে দুদকে হাজির হতে নোটিশ প্রদান করা হয়।