পাহাড় আর লেক ঘেরা দিন-রাত্রি

শফিক হাসান

মঙ্গলবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ
506

ভ্রমণ প্রিয় মানুষজন এখন আর বেড়ানোর জন্য শীত/বসন্তের অপেক্ষায় থাকেন না, কোন একটা উপলক্ষ পেলেই বেড়িয়ে পরেন ঘুরতে। তবে বেড়ানোর জন্য এই সময়টাই সেরা। আর তাই এই হিম হিম শীতে আপনিও চাইলে প্রিয়জনদের নিয়ে কোথায়ও বেড়িয়ে আসতে পারেন। আর বেড়ানোর জন্য বাংলাদেশ এমনিতেই পাহাড়প্রকৃতি, সমূদ্রনদী,ঝর্না, বন আর সবুজের বিপুল সমারোহ। তবে, আপনার বেড়ানোর জায়গা যদি হয় পাহাড় আর মোহনীয় কাপ্তাই লেক ঘেরা ‘আরন্যক’, তাহলে তো কথাই নেই! ‘আরন্যকে’র মায়াবী আকর্ষণে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য।

আরণ্যক’ যাত্রার প্রারম্ভে রাঙামাটি শহর শুরুর প্রান্তেই সেনা নিবাসের পাশে কাপ্তাই লেকের ধারে গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্র ‘আরণ্যক’! যে কেউই চাইলে ঘুরে আসতে পারেন আরণ্যক। তবে ‘আরণ্যক’ আসতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আগে কর্তৃপক্ষের সাথে ০১৭৬৯৩১২০২১ এই নাম্বারে যোগাযোগ করে আসতে হবে আর সাথে থাকতে হবে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র।

রাঙামাটির পথে ‘আরণ্যক’ যাত্রা

আরণ্যক’ যেতে চাইলে আপনি আপনার সুবিধামতো যে কোন বাহনে যেতে পারেন। বাসে যেতে চাইলে আপনাকে আসতে হবে অক্সিজেন মোড়, সেখান থেকে আপনার ইচ্ছেমতো রাঙামাটির যে কোন বাসে চেপে বসুন, চাইলে বিআরটিসি বাসেও আসতে পারেন। আর যদি ব্যাক্তিগত গাড়িতে আসতে চান তাহলে তো আপনি আপনার মতো করেই আসতে পারেন।

পাহাড়ি আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে সাম্পান মাঝির গান গাইতে গাইতে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই আপনি পৌঁছে যেতে পারেন ‘আরন্যক’। বাসে চেপে আসলে আপনি শহরে ঢোকার মুখে রাঙামাটি সেনানিবাস এলাকায় নেমে পড়ুন, আর নিজস্ব বাহনে এলে সেনানিবাস কে হাতের ডানে রেখে বামে চলে যান, একটু যেতেই আপনাকে একটু থামতে হবে, আপনার এবং আপনার সঙ্গী দ্বয়ের নিরাপত্তার স্বার্থেই আপনাদের কাছে চাওয়া তথ্য দিয়ে মিলিটারি পুলিশকে সহায়তা করুন। তখনও যদিও ‘আরন্যক’ আপনার দেখা হয় নাই, কিন্তু আশে পাশের সেনা নিবাসের ছিমছাম পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই! এবার তাঁদের দেখানো পথে আসতে থাকুন ‘আরণ্যক’। ‘আরণ্যক’র পথে যেতে উঁচু পাহাড়ের ভাঁজে তৈরি পিচ ঢালা পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আপনি শিহরিত হবেন নিশ্চয়ই।

সেনানিবাসের পথ ধরে হেঁটে আসুন বা গাড়িতে যেভাবেই আসুন পাহাড়ি রাস্তা যখন আপনাকে নিচে আরণ্যকের সামনে পৌঁছাবে, তখন আরন্যকের মায়াবী রুপ আপনাকে বিমোহিত করবেই।

কাপ্তাই লেক আর পাহাড় ঘেরা মোহনীয় রুপসী ‘আরণ্যক’

আরন্যকে নেমে সামনে লেকের টলটলে নীল পানি আর দিগন্ত ছোঁয়া দূরের গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড় যে কাউকেই আপ্লুত করবে। এবার আপনি যখন আপনার জন্য নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করবেন তখন তাদের কাব্যিক নাম গুলোতেও একবার চোখ ভুলাতে ভুলবেন না। গাংশালিকের কক্ষ থেকে যখন আপনি বাইরে তাকাবেন তখন দেখবেন সামনে লেকের স্বচ্ছ নীল জল, পাশেই মাঠে সবুজ ঘাস আর তার পাশেই ছোট সুন্দর সুইমিং পুল! আপনি নিশ্চয়ই ততক্ষনে রোমাঞ্চিত হয়ে উঠবেন এগুলোতে নিজেকে জড়িয়ে নিতে। তার আগে সকালের নাস্তা সারতে চলে আসুন আরন্যকের সুন্দর ক্যাফেটেরিয়ায়, তবে বলে রাখা ভালো, আরন্যকে তাঁদের ক্যাফেটেরিয়ায় সকালের নাস্তা বা যে কোন কিছু খেতে হলে আপনাকে আগেই অর্ডার করে নিতে হবে, আর তাঁদের খাওয়ার মানও আপনাকে তৃপ্ত করবে। নাস্তা সেরে এবার আপনি তাঁদের ঘাটে বাঁধা নিজস্ব নৌকা ভাড়া নিয়ে বেড়িয়ে পড়তে পারেন শুভলং ঝর্নার উদ্দেশ্যে, তবে শুভলং ঝর্না ঘুরে আসতে চাইলে একটু সকাল সকাল বেরিয়ে পড়াই ভালো, কারণ শুভলং ঝর্না ঘুরে আসতে আপনার প্রায় চার পাঁচ ঘন্টা লেগে যাবে, তবে এই ভ্রমণ আপনাকে অপার আনন্দ দিবে যখন আপনি শুভলং যেতে যেতে কাপ্তাই লেকের মোহনীয় রূপ দেখবেন আর শুভলং ঝর্না তো ভালো লাগবেই, চাইলে আপনি ঝর্নায় নিজেকে ভিজিয়েও নিতে পারেন। আর আপনি যদি দূরে যেতে না চান, তাহলে ঘন্টা দুয়েকের জন্য ঘুরে আসতে পারেন চাকমা রাজার বাড়ি, বৌদ্ধ বিহার বা কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগে!

কাপ্তাই লেক এবং আর ও অনেক কিছু ঘুরে এসে আপনি চাইলেই আপনাকে এলিয়ে দিতে পারেন ছোট সুন্দর সুইমিং পুলের নীল পানিতে! মাছ ধরার শখ আছে যাঁদের তারাও চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শৌখিন মাছ শিকার করতে পারেন লেকে! বিকেলের কোমল রোদে আপনি আপনার প্রিয়জন কে নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন আরণ্যক আর তার আশেপাশের সুন্দর স্থাপনা। চাইলে আপনি টুকটাক কেনাকাটাও সেরে নিতে পারেন সেখানকার ছোট দোকানে, পাহাড়ি তাঁতের কাপড় আর অন্যান্য জিনিসপত্রে ঠাসা সেই দোকান। এরপর আপনি এসে বসুন লেকের ধারের সবুজ ঘাসে পাতা চেয়ারে আর চা বা কফি খেতে খেতে অবলোকন করুন দিগন্ত জোড়া সুন্দর নয়নাভিরাম দৃশ্য! রাতের আরন্যক আর ও অনেক বেশী মায়াবী।

আর আপনি যদি কোন ভরা পূর্ণিমাতে আরন্যক ভ্রমণ করেন তবে তো কথাই নেই, বিরস লোককেও রাতের আরন্যকের মায়াবী রূপ কাব্যিক করবেই! আপনার বাংলোর পাশে খোলা মাঠে বা লেকের মধ্যে করা গোল বসার ছাউনি তে প্রিয়জন কে পাশে বসিয়ে সারা রাত জ্যোৎস্নায় স্নাত হওয়া তা শুধু আপনাকে আর আপনার সঙ্গীকে আবেগময় ভালোবাসায় আচ্ছন্ন করে রাখবে! এভাবেই আপনি আপনার প্রিয়জনদের নিয়ে সেরা সময়টি কাটিয়ে আসতে পারেন পাহাড় আর জলে ঘেরা শান্ত সুন্দর মোহনীয় ‘আরণ্যকে’।

x