পাহাড়ে ১৫ দিনে ঝরল ৩ প্রাণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বুধবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
65

নতুন বছরের শুরুতে আবারো রক্ত ঝরল পাহাড়ে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ৩ খুনের ঘটনায় আবারো উত্তপ্ত পার্বত্য এলাকা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জের ধরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। একের পর এক ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এছাড়া ঘটেছে অপহরণের ঘটনা। আঞ্চলিক দলগুলোর মাঝে সহিংস ঘটনা আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার শঙ্কা রয়েছে। ১৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড়ে জেএসএস (এমএন লারমা) এর নেতা মোহন ত্রিপুরা হত্যাকান্ডের রেশ না কাটতেই শনিবার রাতে ইউপিডিএফ এর সাবেক কর্মী পিপলু ত্রিপুরা (রনি) খুন হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জের ধরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এর আগে চলতি মাসে ৪ জানুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক জেএসএস( এমএন লারমা) নেতা বসু চাকমাকে খুন করা হয়।
এর আগে ২০১৮ সালে ২৪ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুইজন প্রাণ হারান। এসময় নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে নির্বাচনের পরে সংঘাত আরো বেড়ে যায়। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর চলমান সংঘাত আরো দীর্ঘ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে সংঘাত। ২০১৮ সালে আধিপত্য বিস্তারের এই সংঘাতে কমপক্ষে ৪৬ জন প্রাণ হারান। আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ(প্রসীত খীসা) ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতির পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খাগড়াছড়িতে নতুন কুমার চাকমা(সিংহ) ও রাঙামাটিতে উষাতন তালুকদার (সিংহ) নির্বাচনে অংশ নেয়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ জেএসএস( এম এন লারমা) প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দুই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন দেয়। নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী জয় লাভ করে। জেএসএস( এম এন লারমা) এর কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ায় সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে। চলতি মাসের ৪ জানুয়ারি বাঘাইছড়িতে বসু চাকমা (৩৮) ও ১৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড়ে মোহন ত্রিপুরা(৩৩) নামে দুই জেএসএস(এমএন লারমা) নেতাকে হত্যা করা হয়। উভয় হত্যাকান্ডের জন্য জেএসএস ও ইউপিডিএফকে দায়ী করা হয়। এসব ঘটনার রেশ না কাটতে শনিবার রাতে বাসায় ঢুকে সন্ত্রাসীরা পিপুল ত্রিপুরাকে খুন করে। রোববার সকালে পিপলু ত্রিপুরার লাশ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়। এসময় পিপলু ত্রিপুরার স্বজনরা জানান, পিপলুর দুই সন্তান টিংকু ও কিমুন ত্রিপুরা। পিতার লাশ নিতে স্বজনদের সাথে তারাও হাসপাতলে এসেছিল। এসময় পিপলুর মা আহজারি করে বলেন, আমার ছেলে একজন প্রতিবন্ধী। সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে মারল। হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ পুলিশ পাহারায় রামগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, লাশ ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনরা কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করবে।
এর আগে ১১ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা মেরং ইউনিয়নের জেএসএস( এমএন লারমা) এর সদস্য কিরণ চাকমাকে অপহরণ করে দুবৃর্ত্তরা ।এ ঘটনার জন্যও ইউপিডিএফকে দায়ী করা হয়। তবে এখনো অপহৃত কিরণ চাকমাকে উদ্ধার করা যায়নি।
একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। তবে এসব নিয়ে সরাসরি কেউ বলতে চায় না। সচেতন মহল মনে করেন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে চলমান বিরোধ আরো বাড়বে। এদিকে ৯ জানুয়ারি পানছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান নজিরের উপর হামলায় ঘটনা ঘটে। বাজারে বসা অবস্থায় নজিরকে গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) ও জেএসএস( এম এন লারমা)এর মধ্যে দীর্ঘদিন সংঘর্ষ চলে আসছিল। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ আত্মপ্রকাশ হওয়ায় পর সংঘাত আরো বেড়ে যায়। নব্য সৃষ্ট গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এর সাথে জেএসএস(এমএন লারমা) এর সখ্যতা গড়ে উঠে। খাগড়াছড়ি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন জানান, পাহাড়ের অস্ত্রধারী সংগঠনগুলো এসব হত্যাকান্ড ও হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইতিমধ্যে রামগড়ে মোহন ত্রিপুরার হত্যার ঘটনায় দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ইউপিডিএফ এর নিন্দা : ইউপিডিএফ এর সাবেক কর্মী পিপলু ত্রিপুরাকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সংগঠক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা।

x