পাহাড়ে সুদর্শন সিঁদুরে মৌটুসি

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ২ মার্চ, ২০২০ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
85

সবুজ পাহাড় শীতে কিছুটা বিবর্ণ। পাতাঝরা এই সময়েও পাহাড়ে বেশ চোখে পড়ে পাখি। শীতের কারণে অনেক পরিযায়ী এই সময়ে পাখিরা পাহাড়ে আসে। এসময় দেশী পাখিও চোখে পড়ে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার দুর্গম বগাপাড়া এলাকায় বৌদ্ধ বিহারের সবুজ গাছের উঁচু ডালে হঠাৎ চোখে পড়ে মৌটুসি। মটরশুটি গাছের ঝোপে বেগুনি কোমর মৌটুসি ও সিঁদুরে মৌটুসি। সিঁদুরে মৌটুসি দ্রুত এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। এদের ছবি তোলা বেশ কষ্টসাধ্য। মানুষের আওয়াজ শুনলে এরা উড়ে বেড়ায়। তবে অনেক চেষ্টা করেও সিঁদুরে মৌটুসি ফ্রেমবন্দি করতে বেশ সময় লাগে। সিঁদুরে মৌটুসি শরীরজুড়ে লাল রঙের আভা। গাল,গলা,পিঠ,পিঠ উজ্জ্বল লাল। এরা আকারে চড়ু্‌ইয়ের চেয়ে ছোট। লম্বায় ১১ সে.মি। চঞ্চু গোলাপী। পেট হলদে। ডানা জলপাই বর্ণ। দীর্ঘ নীল লেজ। স্ত্রী মৌটুসির দেহতল হলদে সবুজ; মাথা,পিঠ,ডানা ও লেজ জলপাই ুহলুদ ; চঞ্চু বাদামি। চোখ বাদামি। চোখ কালচে-নীলে বাদামি। এদের পা কালো। ছোট হলেও এরা খুবই ক্ষীপ্র । এদের বেশ কর্মশক্তি । সিঁদুরে মৌটুসি’ ইংরেজি নাম Crimson Sunbirds ,বৈজ্ঞানিক নাম Aethopyga siparaja
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বগাপাড়া থেকে ছবিটি সিঁদুরে মৌটুসির তুলেছে শৌখিন আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা। একটির বেশি ছবি তিনি তুলতে পারেনি। এরা দ্রুত উড়ে যায়। তিনি জানান, ‘সিঁদুরে মৌটুসি তীক্ষ্ম
দৃষ্টিসম্পন্ন পাখি। আমাদের দেশে সিঁদুরে মৌটুসি ছাড়াও চুনিমুখি মৌটুসি,বেগুনি কোমর মৌটুসি,বেগুনিগলা মৌটুসি ও বেগুনি মৌটুসি দেখা যায়। তবে সিঁদুরে মৌটুসি খুব কমই দেখা যায়।’
সিঁদুরে মৌটুসির খাদ্য তালিকায় রয়েছে পোকা মাকড়। এরা উঁচু ডালে বাসা বাঁধে। সর্বোচ্চ ২-৪টা ডিম পাড়ে। পুরুষ ও স্ত্রী চুটকি উভয়ই ডিমে তা দেয়। এক মাস তা দেওয়ার পর ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও সুন্দরবন,ঢাকা ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যাবে। বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন,ভারত,নেপাল,ভুটানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এদের দেখা যায়। প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ক (আইইউসিএন) এর তালিকায় সিঁদুরে মৌটুসি ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত প্রাণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।