পাহাড়ে পরিযায়ী খয়েরি চখাচখি

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
20

বাংলা ঋতুতে হেমন্ত হলেও পাহাড়ে এখন শীতের আমেজ। এই সময়ে পাহাড়ে দেখা মিলছে পরিযায়ী পাখি চখাচখি। খয়রা চখাচখি অ্যানাটিডি গোত্র বা পরিবারভুক্ত । সারা বিশ্বে এটি দেখা গেলেও বাংলাদেশে এরা পরিযায়ী। তবে শিকারীদের কারণে পাহাড়ের জলাভূমিতে কমছে চখাচখি’র সংখ্যা।
এরা সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় থাকে। পুরুষ হাঁসটিকে চখা এবং স্ত্রী হাঁসটিকে চখি নামে ডাকে। দুইয়ে মিলে চখাচখি। এরা একা থাকে না। সবসময় জোড়ায় জোড়ায় থাকে বলে এদের চখাচখি বলে। চখাচখির ইংরেজি নাম জঁফফু ঝযবষফঁপশ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ঞধফড়ৎহধ ঋবৎৎঁমরহবধ ।
সারাদেশের জলাভূমিতে এদের দেখা গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঘাইছড়ি ও লংগদুেেত এদের দেখা যায়। বাঘাইছড়ি থেকে চখাচখির ছবিটি তুলেছেন সৌখিন আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা। তিনি জানান,‘ চখাচখি শীতে পরিযায়ী হয়ে এদেশে আসে। তবে এসময়ে পাখি শিকারীদের কারণে অনেক পাখিই মারা পড়ে।’
চখাচখি বেশ বড় আকারের পাখি। এদের দেহের রঙ জাফরান। ডানায় ধাতব সবুজ। এদের ডানায় রয়েছে সবুজ রঙ । এদের প্রান্ত পালক ও লেজ কালো। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির গলায় কালো বলয় থাকে। এদের পালক ৩৬ সে.মি । ঠোঁট কালো লম্বায় ৪.৩ সে.মি । পা ৬ সে.মি ও লেজ ১৪ সে.মি । ওজন প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি। পুরুষ চখা ও স্ত্রী চখির মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা আছে। পুরুষ চখার তুলনায় স্ত্রী চখি কিছুটা ছোট। চখা কমলা-বাদামি রঙের মাঝামাঝি দারুচিনি বর্ণের। এদের মাথা ও ঘাড় হালকা বাদামী। পালকে ধাতব-সবুজ ও সাদা ঢাকনি-পালক থাকে।
চখাচখির খাদ্য তালিকায় রয়েছে শস্যদানা,শামুক, কেঁচো,ছোট ব্যাঙ এবং পোকামাকড়। সাঁতার কাটার সময় এদের শরীরের সামনের দিকের অনেকাংশ পানিতে ডুবে থাকে। মে থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম। এরা সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১০টি ডিম দেয়। ডিমের বর্ণ ধবধবে সাদা । চখি প্রায় একমাস তা দেওয়ার পর ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। চখাচখির ছানা প্রায় দুই মাসে উড়তে পারে।
এশিয়া ্‌ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে এদের দেখা যায় বেশি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতি সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ( আইইউসিএন) এদের শঙ্কামুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে মাংসের জন্য দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক হারে চখাচখি শিকার করা হয়। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ আইনে এই প্রজাতিটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

x