পাহাড়ে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৮ মাস

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়ে জেঁকে বসেছে শীত। সন্ধ্যার পর থেকে বাড়ে শীতের তীব্রতা। সকাল পর্যন্ত থাকে শীতের প্রকোপ। শীতের শুরুতে খাগড়াছড়িতে বাড়ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ায় নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরোধে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
শীতের প্রকোপ বেশি পাহাড়ে। শীত বাড়ার সাথে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ঠান্ডা ছাড়াও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায়। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ৬ থেকে ১৮ মাস। বাড়তি রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে রোগীরা। তবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চট্টগ্রামে রেফার করছে চিকিৎসকেরা।
লক্ষ্মীছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা লাচি মং মারমার শিশুপুত্র ৫ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে একদিন চিকিৎসার পর প্রেরণ করা হয়েছে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। সেই থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। তিনি জানান, ঠান্ডা থেকে শ্বাসকষ্ট, পরে তা নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়। হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছি। বাচ্চা এখন কিছুটা সুস্থ হওয়ার পথে।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় মাটিরাঙা উপজেলার তবলছড়ি এলাকা করিম মিয়ার ৮ মাসের শিশু সন্তান। পরে আশংকাজনক হওয়ায় খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামে সন্তানকে নিয়ে যান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, এখানে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নেই। এখন চট্টগ্রামে নিয়ে যাচ্ছি। গত নয় দিনে কেবল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় অন্তত ৮০ জন শিশু রোগী। এদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। রোগীর স্বজনরা জানান, বেশিরভাগই ৪-৫ দিন পর্যন্ত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। শীতের কারণে নবজাতক ও শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অনেক শিশু সিবিয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আশংকাজনকভাবে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুজলা চাকমা বলেন, শিশুদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অবস্থা ক্রিটিক্যাল। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ আছে। সেভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিউমোনিয়া হলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকেরা। সতর্কতা অবলম্বন করলে এড়ানো যাবে নিউমোনিয়া।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা বলেন, শীত আসার পর থেকেই শিশু ও বয়স্করা শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। তিনি জানান, বাড়ির পরিবেশ যাতে স্যাঁতস্যাঁতে না থাকে, বাচ্চাদের যেন ঠান্ডা না লাগে। গরম কাপড় পরাতে হবে। তবে অনেক সময় গরম কাপড়ের কারণেও ঘেমে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। সেই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

x