পাহাড়ি ঢলে মীরসরাইয়ের অনেক গ্রাম পানির নিচে

মীরসরাই প্রতিনিধি

সোমবার , ১৫ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
37

এবারের বর্ষায় চট্টগ্রাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হলেও এতদিন মীরসরাই উপজেলায় তার আঁচ তেমন লাগেনি। কিন্তু গতকাল রোববার দিনভর ভারী বর্ষণে অনেক গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পাঁচ গ্রাম পাহাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পানির নিচে চলে গেছে অন্যান্য ইউনিয়নের বহু গ্রাম। এতে জনজীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গতকাল দিনভর বিরতিহীন বৃষ্টিতে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে জমির ধান, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। হাটবাজারে পানি জমে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। খৈয়াছড়ার ফেনাফুনি, সৈদালী, দুয়ারু, গোভানিয়া, ইছাখালী ইউনিয়নের সাহেবদিনগর, বাঁশখালি, দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর, কালিতল, হাইতকান্দি, সাহেরখালী, মঘাদিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি-ঘরের রাস্তা, উঠান পানিরে নিচে চলে গেছে। রোপা আউশ ও রোপা আমনের অনেক জমি কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মীরসরাই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম সড়ক, ছুফিয়া রোড মক্কা বেকারি এলাকা, বন বিভাগ এলাকা সবই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করার দাবি জানায় এলাকাবাসী। স্থানীয় আবু তাহের দুলাল বলেন, পাহাড়ি ঢলে মির্জা পাড়া ও পশ্চিম খৈয়াছড়া এ দুইটি পাড়ার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িতে হাঁটু সমান পানি উঠে সীমাহীন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক একর জমির ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। খৈয়াছড়া ফেনাপুনী গ্রামের খুরশিদ, একরাম, হাকিম, শফিসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঘরে হাঁটু সমান পানি উঠায় মাটির চুলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই তাই কেরোসিনের চুলা ব্যবহার করে কোনো মতে রান্নাবান্না সারছেন।
খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউল ইসলাম সুমন বলেন, পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের জন্য যাতে একটা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যায় সে চেষ্টা করা হবে।
এই বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো গ্রামে খাদ্য সংকট বা মানবিক বিপর্যয়ের খবর পেলে আমরা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।