পাট শিল্প ধ্বংসের পথে পলিথিন উন্নয়নের পথে

রবিবার , ২২ মার্চ, ২০২০ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
43

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ২৬শে মার্চ ১৯৭২ এক অধ্যাদেশ বলে পরিত্যক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। পাটকলগুলোর সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের জন্যে গঠন করা হয় বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা। পাটকলসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রায়ত্তকরণ খুব সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত ছিল না। ব্যবস্থাপনা ছিল খুবই দুর্বল। রাষ্ট্র্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে নতুন ধনী শ্রেণি গড়ে ওঠার কারণে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে, এরপর পাটশিল্প সম্পর্কে সরকারি উত্তরোত্তর অবহেলা, বিকাশের কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা, সরকারি দলের প্রভাব বলয় সৃষ্টির কাজে পাট শ্রমিকদের ব্যবহার, মিলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন নামে সরকারি মাস্তান বাহিনী তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ পাটকল সংস্থার অধীনে ৭৭টি জুট মিল ছিল। ১৯৮২-৮৩ থেকে বিরাষ্ট্রীয়করণ শুরু হয়, প্রথম দফায় ৩৫টি জুট মিল তাদের আগের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রাপথে ক্রম নিম্নমুখী রেখায় ২০০২ সালে বন্ধ হয় বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজী পাটকল।
২০০৭-০৮ সাল নাগাদ প্রায় সবগুলো বড় পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। সবই হয় লোকসানের যুক্তি দেখিয়ে। বর্তমানে পাটকল আজ জীর্ণদশা। বেসরকারি খাতের পাটকলগুলোও সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। পলিথিনের উন্নয়ন হয়েছে। যেখানে সেখানে রাস্তায় পলিথিনের জোয়ার বইছে। পুকুর, নদী, নালায় ও সাগরে পর্যন্ত পলিথিন ভাসছে। এই রকম চলতে থাকলে দেশে বিপর্যয় নেমে আসবে। পাট শিল্প আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে এবং পলিথিন মার্কেটে দাপটের সহিত চলছে। পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর নয় পলিথিন, এবার হবে পাটের জয় জয়কার।
-রাজীব হোড় (রাজু), যুধিষ্ঠির মহাজনের বাড়ি, দক্ষিণ কাট্টলী, চট্টগ্রাম-৪২১৯।