পাখিদের ক্যাম্পাস

তানভির পিয়াল

শনিবার , ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
175

একে তো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, তার ওপর ক্যাম্পাস হলো শহরের মধ্যে। যেখানে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো জায়গা দেয়াটাই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য দুষ্কর হয়ে পড়ে, সেখানে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)। ইডিইউর নিজস্ব ক্যাম্পাসটি শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরই নয়, একই সঙ্গে গাছ-গাছালি আর পাখিদেরও! কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের গাছগুলোতে নতুন করে সংসার পেতেছে প্রায় বিশটি পাখি পরিবার।
ইট-সিমেন্টের উঁচু দালান, বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল, টাওয়ার-উড়ালসেতুর মতো নাগরিক নানা প্রতিবন্ধকতার ভিড়ে আজকাল শহরের পাখিগুলো যেন হারিয়েই যাচ্ছে। আগের মতো তাদের কলতান শোনা যায় না, উড়তে দেখা যায় না তাদের ঝাঁক বেঁধে। কিন্তু এ শহর, এই পৃথিবী তো পাখিদেরও! তাদেরও তো রয়েছে সহাবস্থানের সমান অধিকার। প্রকৃতি থেকে শুধু নেয়া নয়, কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার নিমিত্তে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি নিয়েছে এক চমৎকার উদ্যোগ।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। চট্টগ্রামের খুলশীতে পাহাড়ের পাদদেশে এক মনোরম ক্যাম্পাস ইডিইউর। চারপাশে মনোলোভা সবুজ, রঙ-বেরঙের ফুল, মাঝখানে অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপত্যশৈলীর লাল দালানের ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের এই পাহাড়ে উঁচু গাছগুলোতে পাখিদের বসবাসের জন্য স্থাপন করা হয়েছে কিছু ঘর। মাটির কলসের আকারের প্রায় বিশটি পাত্র টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে গাছের ডালে ডালে। আর পাখিরাও এ আহ্বানে সাড়া দিতে বিলম্ব করেনি। এরই মধ্যে বাসাগুলোতে সংসার পেতেছে বেশ কিছু চড়ুই আর ময়না দম্পতি। ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গেলেই এখন শোনা যাচ্ছে পাখিদের কিচির-মিচির। আর এ খবর সঙ্গে সঙ্গেই যেন রটে গেছে পুরো ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে গিয়ে দেখে আসছে তাদের নতুন প্রতিবেশিদের।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাস জানায়, ‘ছোটোবেলায় দেখেছি আমাদের ঘরের কার্নিশে, বারান্দায় চড়ুই, জালালী কবুতর ঘর বানিয়ে থাকতো। আমরা মাঝেমাঝে দানাদার খাবারও রেখে আসতাম তাদের জন্য। কিন্তু এখন এমনটা আর দেখতে পাওয়া যায় না। বসবাসের জায়গা কমে যাওয়াই এর মূল কারণ। আমাদের ক্যাম্পাসে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এখানের শিক্ষার্থী হিসেবে গর্বই হচ্ছে আমার।’
শীতের সময় আরো পাখি আসবে বলে আশা শিক্ষার্থী রিপা সায়মার। তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘আমরা উদ্যোগী হয়ে যদি পাখিদের জন্য খাবার এনে রাখি, তাহলে দিনে দিনে এই ক্যাম্পাস অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে। আসছে শীতে কোকিলের কুহুতান শুনতে চাইলে আমাদের ক্যাম্পাসে চলে আসতে পারেন পিপাসু নগরবাসীরা।’

x