পাকা ধান ক্ষেতে বন্য হাতির তাণ্ডব

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া 

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৯:০৬ অপরাহ্ণ
97

লোহাগাড়ায় আমন ক্ষেতে দিনভর তাণ্ডব চালিয়েছে বন্যহাতির দল।

এসময় হাতির পেটে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল।

হাতির পায়ের নিচে পড়ে তছনছ হয়েছে বির্স্তীর্ণ পাকা ধান ক্ষেত।

লোকালয়ে বন্যহাতি প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে একদিকে আশপাশের এলাকার উৎসুক জনতা হাতি দেখার জন্য ভিড় জমায়। অন্যদিকে, বন্যহাতির আক্রমণে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় পুরো দিন আতংকে ছিলেন এলাকার মানুষ।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালে লোকজন লোহাগাড়া সদরের লম্বাদিঘী এলাকায় ধান ক্ষেতে বন্য হাতির দল দেখতে পায়।

দিনভর তাণ্ডব শেষে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের চেষ্টায় সন্ধ্যার পর কলাউজানের হিন্দুর হাট এলাকা দিয়ে পাহাড়ে চলে যায় হাতির দল।

পাহাড়ে খাবার সংকটের কারণে বন্যহাতির দল লোকালয়ে ছুটে আসছে বলে জানিয়েছেন হাতি বিশেষজ্ঞরা।

বন বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের লম্বাদিঘীর পাড় এলাকায় ১৪টি বন্যহাতির একটি দল দেখা যায়।

এসময় হাতির দল পাকা আমন ধান খাচ্ছে আর ছোটাছুটি করছে।

এতে ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, যেসব ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে বন্যহাতির দল চলাচল করেছে সেখানে আর ধান কাটতে যেতে হবে না। হাতির পায়ের নিচে পড়ে তছনছ হয়ে গেছে তাদের স্বপ্ন।

এলাকায় বন্যহাতি প্রবেশের খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ, সহকারী কমিশনার পদ্মাসন সিংহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সারওয়ার জাহান, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বন্যহাতির দলকে লোকালয় থেকে পাহাড়ের দিকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালান।

দিনভর ব্যাপক তাণ্ডব শেষে সন্ধ্যার পর পাহাড়ে ফিরে গেছে হাতির দল।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ‘লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের লম্বাদিঘীর পাড়া এলাকায় বন্যহাতির দল দেখে লোকজন আমাদের খবর দেয়। মনে হচ্ছে হাতির দলটি রাতের বেলা লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। সকাল হওয়ার পর চারদিকে লোকজন থাকায় এবং পথ হারিয়ে ফেলায় পাহাড়ে যেতে পারেনি। সারাদিন আমাদের অনেক চেষ্টার পর সন্ধ্যায় হাতির দলটি পাহাড়ে ফিরে যায়।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘বন্যহাতি লোকালয়ে প্রবেশের খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ছুটে যাই। পরে আমাদের সাথে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম এবং পদুয়া রেঞ্জের লোকজন যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে হাতির দলটিকে সন্ধ্যার পর পাহাড়ের দিকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।’

তিনি আরো জানান, হাতির দলকে পাহাড়ে ফেরানোর চেষ্টাকালে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ বলেন, ‘সকালে বন্যহাতির দল লোকালয়ে প্রবেশের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। হাতির দলকে পাহাড়ে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিই। হাতির দল সারাদিন লোকালয়ে অবস্থান করে সন্ধ্যার পর পাহাড়ের দিকে ফিরে যায়। হাতির দলটিকে পাহাড়ের দিকে ফিরিয়ে নিতে বন বিভাগের লোকজন সারাদিন অনেক কষ্ট করেছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হাতি বিশেষজ্ঞ ড. গাজী আছমত জানান, মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে বন্য হাতিগুলো এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ফলে হাতির দল যখন যেদিকে ইচ্ছা ছুটে যাচ্ছে। মূলত পাহাড়ে খাবার সংকট হওয়ায় হাতিগুলো লোকালয়ে চলে আসে। এছাড়া হাতির দল সবসময় একই পথে চলাচল করে। হাতির চলাচলের পথে গাছ কাটা, ঘর বাধাসহ কোনো ধরনের পরিবর্তন দেখলে হাতিগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এছাড়া পাকা ধান হাতির কাছে বেশ মজাদার খাবার। এজন্য ধান পাকার মৌসুম আসলে হাতি লোকালয়ে ছুটে আসে।

x