পাইকারি বাজারে চাঙা মসলা ব্যবসা

ইকবাল হোসেন

শুক্রবার , ২১ জুন, ২০১৯ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
180

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে সরগরম হতে শুরু করেছে মসলার বাজার। দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের আড়তগুলোতে কোরবানির অত্যাবশ্যকীয় এ উপকরণগুলোর যোগান বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় চিকন জিরা, মিষ্টি জিরা, গোল মরিচ, পেঁয়াজের দাম কমলেও অস্বাভাবিক বেড়েছে এলাচি, দারুচিনি, রসুন, আদার। চট্টগ্রামে বেশি কোরবানির পশু জবাই করা হয় বলে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে চট্টগ্রামে মসলার চাহিদাও বেশি থাকে।
খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার মসলা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকায় প্রায় ১৮/২০ জন মসলা আমদানিকারক রয়েছেন। খাতুনগঞ্জের ইলিয়াছ মার্কেট ও জাফর মার্কেট মসলার জন্য পরিচিত। বর্তমানে পাইকারি বাজারে মসলার পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও কয়েকটি পণ্যের দাম উঠানামা করেছে অস্বাভাবিকভাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, গরম মসলার ৯০ ভাগই আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, চিকন জিরা আমদানি হয় ভারত, সিরিয়া ও তুরস্ক থেকে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বর্তমানে ভারতীয় চিকন জিরা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৯৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০৫ টাকা। তবে গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৩২০-৩২৫ টাকা কেজিতে। বর্তমানে সিরিয়ার জিরা ২৭০-২৮০ টাকা এবং তুরস্কের জিরা কেজিতে ৩৫৫-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত, মিশর থেকে আমদানি হয় মিষ্টি জিরা। আগে মিশরীয় জিরা বেশি চললেও এবার ভারতীয় জিরা বেশি কেনাবেচা হচ্ছে বাজারে। বর্তমানে প্রতিকেজি ভারতীয় মিষ্টি জিরা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা একবছর আগে কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেশি ছিল। অন্যদিকে বর্তমানে মিশরীয় জিরা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা কেজিতে। বাজারে স্বাভাবিকভাবে গুয়েতেমালা ও ভারত থেকে এলাচি আমদানি হয়। এবার মৌসুমে শিলাবৃষ্টিতে ভারতে ফলন নষ্ট হওয়ার কারণে রপ্তানির পরিবর্তে এলাচি আমদানি করতে হয়েছে ভারতকে। এবার বাজারে বেশ কয়েক ধরনের এলাচি রয়েছে। তদ্মধ্যে আর এস জাম্বো, জেবিসি, এলএমজি, এসএমজি, টিজি অন্যতম। বাজারে বছরের ব্যবধানে প্রতিকেজি এলাচিতে ৫০০-৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। বর্তমানে আর এস জাম্বো বিক্রি হচ্ছে ২৪৫০ টাকা, জেবিসি ২২৫০-৬০ টাকা, এলএমজি ২২৪০ টাকা, এসএমজি ২০৫০ টাকা এবং টিজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকায়।
বাংলাদেশে প্রথম থেকেই দারুচিনি আসতো চায়না থেকে। ভাল মানের হওয়ায় গত ৪-৫ বছর ধরে যুক্ত হয় ভিয়েতনাম। বর্তমানে বাজারে ভিয়েতনামের দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এক বছর আগে একই দারুচিনি বিক্রি হতো ২৯০-৩০০ টাকায়। চায়না দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। বাংলাদেশে মাগাদাস্কার, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া থেকে লবঙ্গ আমদানি হয়। মান ভাল হওয়ায় মাগাদাস্কারের লবঙ্গই বেশি চলে। বাজারে বর্তমানে মাগাদাস্কার ও ব্রাজিলের লবঙ্গ ৭৭০ টাকা ও ইন্দোনেশিয়ার লবঙ্গ ৭৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতিকেজি গোলমরিচ ৩৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও গত বছর এ মসলাটির দাম ছিল ৭০০ টাকার বেশি।
গরম মসলা ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, এখনো পুরোপুরি সরগরম না হলেও গুদামে মসলার যোগান বেড়েছে। বেশিরভাগ মসলার দাম কম থাকলেও সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচির দাম। বাজারে গত বছরের গোলমরিচও রয়েছে। গোলমরিচ যারাই আমদানি করেছে সবাই লোকসান দিয়েছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভারতীয় লাল মরিচ প্রতিকেজি ১৬৫-১৭০ টাকা, দেশি কুমিল্লার মরিচ ১২৫-১৩০ টাকা, অপেক্ষাকৃত কমঝালের রায়পুরা জাতের মরিচ মানভেদে ১২০-১৪০ টাকা, দেশীয় হাটহাজারী জাতের মরিচ ১৭০-১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ভারতীয় হলুদ ৯৭-৯৮ টাকা এবং দেশি হলুদ মানভেদে ৮৮-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দেশি ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮০-৯৫ টাকা পর্যন্ত।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সেকান্দর জানান, পাইকারি বাজারে মরিচ, হলুদ, ধনিয়ার বাজার স্বাভাবিক। কোরবানিকে সামনে রেখে মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত। অন্যদিকে খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের পেঁয়াজ, রসুন আদা ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও রসুন বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দামে। বর্তমানে নাসিক জাতের ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২০-২৪ টাকা। দেশি পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ২০-২১ টাকায়। বাজারে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১১৬ টাকা কেজিতে। একমাস আগে ছিল ৯০-১০০ টাকা। অথচ গত বছর একই রসুন বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকা। অন্যদিকে চায়না থেকে আমদানিকৃত আদা বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১০৭ টাকা কেজিতে। এক মাস আগেও প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকা এবং গত বছর ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় হলুদ।
চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ী আবুল বশর দৈনিক আজাদীকে জানান, চায়নার রপ্তানিকারকরা এবার সিন্ডিকেট করে রসুন-আদার বুকিং রেট বাড়িয়েছে। যে কারণে আমদানি মূল্য বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রসুনের। ৪০-৪২ টাকার রসুন এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।

x