পশ্চিমতীর ফিলিস্তিনেরই ভূখণ্ড : এরদোয়ান

মঙ্গলবার , ৯ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
54

অবরুদ্ধ পশ্চিমতীর ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড বলে মন্তব্য করলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেন, তুরস্ক সবসময় ফিলিস্তিনের সঙ্গে থাকবে। পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত করা হবে বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধভাবে নির্মিত ১০০টিরও বেশি বসতিতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ আখ্যা দিয়ে আসছে ইসরায়েল।
সমপ্রতি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপন দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সার্বভৌমত্বের পরিধি বাড়াবো।’
নেতানিয়াহুর ঘোষণার জবাবে এরদোয়ান বলেন, পশ্চিমতীর ফিলিস্তিনের ভূখন্ড। সেখানে বসতি গড়া মানে ইসরায়েলে অবৈধ দখলদারিত্বমূলক পদক্ষেপ। তুরস্ক সবসময়ই ফিলিস্তিনের পাশে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই পুনঃনির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে দাঁড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করলেই বসতি স্থাপনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। পশ্চিম তীরের বাইরে গাজা উপত্যকা ও জেরুজালেমেও বাড়ছে অবৈধ বসতি নির্মাণ। সেখানকার স্থানীয় আরবদের ভবন তৈরির অনুমতি না দিলেও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য হয় না। ফলে সেখানেও বাড়ছে দখলদারদের সংখ্যা। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ নিয়ে কাজ করা পর্যবেক্ষণ সংস্থা পিস নাউ জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১৪ হাজার ৪৫৪টি অবৈধ বসতির অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। আগের মার্কিন প্রশাসন থাকা অবস্থার চেয়ে যা প্রায় তিনগুণ।

x