পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে রাতেই বৈঠক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সড়কে অচলাবস্থা কাটানোই উদ্দেশ্য

আজাদী অনলাইন

বুধবার , ২০ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:২১ অপরাহ্ণ
341

সড়কে অচলাবস্থা কাটাতে ধর্মঘটে থাকা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে।

রাজধানীতে মন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় এই বৈঠক হওয়ার কথা বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু জানিয়েছেন।

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকরা এই বৈঠকের পরে ঘরে ফিরবেন বলে আশা করছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিডিনিউজ

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মঙ্গলবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয় ট্রাক ও পণ্য পরিবহন শ্রমিকরা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে চালকরা যাতে রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার ঢাকায়ও দেখা দিয়েছে বাস সংকট। পণ্য পরিবহনেও এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মালিক-শ্রমিকদের ‘স্বেচ্ছা কর্মবিরতির’ কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের দায় নিতে চান না পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

বাস মালিকরা বলছেন, আইন নিয়ে ভীতি এবং আন্দোলনরত শ্রমিকরা বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেয়ায় বাস চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে মঙ্গলবার রাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বসলেও সেখানে কোনো সমাধান আসেনি। বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষই সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেননি।

এ অচলাবস্থা নিরসনে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, তারা ধর্মঘট ডাকেননি। যারা ডেকেছে তাদের সাথে বসার ‘কোনো সুযোগ নেই’।

তবে যারা ধর্মঘট ডেকেছে তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাজাহান খান।

তিনি বলেন, ‘নতুন সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অপব্যাখ্যাও হচ্ছে। কথাবার্তা হচ্ছে, এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।‘

সড়ক পরিবহন আইনের কিছু বিষয় নিয়ে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসবেন বলে জানান এই সাংসদ।

তিনি বলেন, ‘কী কী ‍বিষয়ে পরিবর্তন ও সংশোধন করা দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করা হবে। আইনের পরিবর্তন সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা করে যে সিদ্ধান্ত আসবে তার আলোকে সরকারকে একটি ‘ডিমান্ড’ দেওয়া হবে।’

বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে মন্তব্য করে পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘আমরা চাই, যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকুক। আজকের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

এদিকে কর্মবিরতির নামে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে ব্যাপকভাবে যাত্রী ভোগান্তি হওয়ায় এই কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘একটি চিহ্নিত কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী পরিবহন সেক্টরে প্রভাব বিস্তার করে নানা সময়ে সরকারের ভালো কাজগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। এই গোষ্ঠী জনগণের প্রত্যাশিত নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। তারা নিরীহ শ্রমিকদের মাঝে গুজব রটিয়ে ফায়দা নিতে চায়। এ মহলটি পরিবহন সেক্টরে চাদাঁবাজি, ধান্ধাবাজি, নৈরাজ্য জিইয়ে রেখে দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বার্থ হাসিল করে আসছিল। নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়ন হলে তাদের এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় তারা আবার নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।‘

x