পরম সত্তার পরীক্ষায়

কাউসার ইকবাল

বুধবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
22

দার্শনিক সক্রেটিস তার সময়কার ধর্মজ্ঞানী বলে দাবিদারদের উদ্দেশ করে এমন একটা কথা বলেছিলেন, ‘আমি যে জানি না, তা আমি জানি; কিন্তু তারা যে জানে না, তা তারা জানে না। এইজন্যই আমি তাদের চেয়ে ঢের উত্তম।’ দার্শনিক সক্রেটিসের সুরেই একটু ব্যতিক্রমভাবে বর্তমান যুগের ‘ধর্মজ্ঞানী’ বলে দাবিদারদের উদ্দেশ্য করে আমি বলতে চাই, ‘তারা যে জানে না, তা তারা জানে না; কিন্তু আমি যে জানি, তা আমি জানি। এজন্যই আমি তাদের চেয়ে ঢের উত্তম’।
ধর্মজ্ঞানী বলে দাবিদাররা জানেননা যে, তারা পরম সত্তার নেয়া বুদ্ধির পরীক্ষাতে ফেল করে পরম সত্তার সঙ্গে ইবলিস বা দুষ্ট এক সত্তাকে অংশীদার বা শিরক করার পাপ করে চলেছে প্রায়শই। আর পরম সত্তা তো ঘোষণা দিয়েই রেখেছেন যে, তাঁর সঙ্গে শিরক বা অংশীদারত্ব স্থাপনকারীদের পাপ তিনি কখনোই ক্ষমা করবেন না। তাহলে ধর্মজ্ঞানী বলে দাবিদাররা কী করে তেমন জীবন পেতে পারেন, যেমন জীবন তারা প্রত্যাশা করছেন! পৃথিবীতে মন্দ যা কিছুই ঘটছে, তার জন্য ইবলিস বা তৃতীয় কোন সত্তার- এমনকি অপরাধী বলে বিবেচিত মানুষটিরও কার্যত কোন ক্ষমতা নেই। পরম সত্তাই তাঁর একক শক্তি ও ক্ষমতাবলে পৃথিবীতে সবকিছু ঘটিয়ে চলেছেন, যা তিনি ঘটাতে চান। এর মধ্য দিয়েই তিনি যাকে ভোগাতে চান, তার জন্য তেমন জীবনব্যবস্থা নির্ধারণ করে দেন। আর যাকে শান্তিময় জীবন প্রদান করতে চান, তার জন্য তেমন জীবনের ব্যবস্থা করে দেন। পরম সত্তার ইচ্ছা ও শক্তিকে টেক্কা দিয়ে বিপরীত কিছু কারো ঘটানোর ক্ষমতা আছে, এমনটা যারা ভাবে বা বলে, তারাই পরম সত্তার ক্ষমতায় অংশীদারত্ব স্থাপন করার পাপ করে ফেলে এবং পরম সত্তার ক্ষমার অযোগ্য হয়ে যায়। তাই এরা তেমন জীবন কিছুতেই পাবে না, যেমন জীবন তারা প্রত্যাশা করছে।

x