পণ্য বাজারের ওপর সরকারের সজাগ দৃষ্টি জরুরি

সোমবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
19

পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আমাদের দেশে অধিক দামে পণ্য ক্রয় করার সামর্থ্য আছে মুষ্টিমেয় লোকের। তাই যেসব কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়, তার প্রভাব সবটাই বৃহদাংশ জনগণের ওপর পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে চালের বাজারে চলছিল অস্থিরতা। পেঁয়াজ নিয়ে তো লঙ্কাকাণ্ড এখনো শেষ হয় নি। বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে তার ওপরে। মিয়ানমারের একটু ভালো মানের পেঁয়াজ, তাও ২০০ টাকার নিচে নয়। আর চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। যদিও বাজারে পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানতে চট্টগ্রামে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। প্রত্যেক ক্রেতা প্রতি কেজি ৪৫ টাকা করে (জনপ্রতি এক কেজি করে) পেঁয়াজ নিতে পারছেন। কিন্তু এসব পেঁয়াজ কিনতে একজন মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গতকাল রোববার দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, শনিবার থেকে নগরীর ১০ স্পটে ট্রাকের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। মজুদ প্রচুর। বন্দরেও খালাস অবস্থায় পেঁয়াজের চালান রয়েছে। দাম নাগালে না আসা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি কার্যক্রম চলবে।
এদিকে, বাজারে শীতকালীন সবজি এলেও দাম বেশ চড়া। মাঝারি আকৃতির ফুলকপি ৫০ টাকার ওপরে। বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, নতুন আলু থেকে শুরু করে সবকিছুর মূল্য এখনো নাগালের মধ্যে আসেনি। মাসখানেক ধরে সরু চালের দামও কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বাড়তি। সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা। ডিমের দামও বাড়তি। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র হিসেবে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় প্রতিটি নিত্য পণ্যের দামই বেশ বাড়তি। ফলে বাজারে ক্রেতা সাধারণের জন্য কোন স্বস্তি নেই। প্রতিদিনের জীবন প্রণালিতে আমাদের প্রয়োজন হয়ে পড়ে অনেক কিছুর। তার মধ্যে খাদ্যদ্রব্য প্রধান। এরপর বাসস্থান। আমাদের এই বাংলাদেশে বাসস্থান সংকট সীমাহীন। তার পাশাপাশি যে সমস্যা এখন প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। এ কথা অনস্বীকার্য যে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দামের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। চাল, ডাল, তেলের মূল্য যে কতভাবে বৃদ্ধি পায় তার কোন হিসেব নেই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সমাজের মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী ছাড়া কম বেশি সবাই জর্জরিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতা। চাহিদা যদি তীব্র হয় এবং সরবরাহ যদি সীমাবদ্ধ হয়, পণ্যের জন্যে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যায়। পণ্য সংগ্রহের জন্য শুরু হয়ে যায় প্রতিযোগিতা। ফলে অনিবার্যভাবে মূল্য বৃদ্ধি ঘটে। সবচেয়ে বড় দুঃখজনক কথা হচ্ছে, মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কাজ করে একটা সিন্ডিকেট। আকস্মিক কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধিতে মজুতদার, মুনাফাখোর প্রভৃতি অসাধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থান্বেষী ভূমিকা থাকে। এরা সুযোগ বুঝে হঠাৎ করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বাজার থেকে গায়েব করে গোপনে মজুত করে। ফলে বাজারে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম সংকট। পণ্যের জন্যে হা হুতাশ শুরু হলে সুযোগ বুঝে স্বার্থান্বেষী অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ ক্রেতারা। তবে অনেক সময় বিশ্ব বাজারের প্রভাবেও পণ্য মূল্য বৃদ্ধি হয়ে থাকে। আশেপাশের দেশগুলোও এসব সমস্যা মোকাবেলা করে থাকে। যদিও উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের পণ্য মূল্য বৃদ্ধির কিছুটা পার্থক্য আছে। আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দারিদ্র্য পীড়িত। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে এদের জীবন দুঃসহ হয়ে ওঠে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যেভাবে দ্রব্য মূল্য বাড়ছে, তার সঠিক প্রতিরোধ হয়তো বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়। তারপরও যেটুকু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা যে কোন মূল্যেই রোধ করতে হবে। পণ্য বাজারের ওপর সরকারের সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার। সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে সংকট সৃষ্টি না হয়, তার দিকে নজর দিতে হবে।

x