নেপালকে হারিয়ে সোনার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

এসএ গেমস ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেনের জোড়া হাফ- সেঞ্চুরিতে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস ক্রিকেটে হ্যাট্টিক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টে টি-২০ ক্রিকেটের ফরম্যাটে গতকাল নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক নেপালকে ৪৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ১০৯ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ভূটানকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। গতকালের ম্যাচটি নেপাল জাতীয় দলের বিপক্ষে বলেই কিছুটা লড়াইয়ের আশা ছিল। সেই সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের স্বাগতিক দল নেপাল। তবে পরশ খাড়কা ও কারান কেসিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন। পরে বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে সহজ জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শনিবার অনুষ্ঠিত খেলায় আগে ব্যাট করে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেনের ফিফটিতে বাংলাদেশ তোলে ১৫৫ রান। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে নেপাল তোলে ১১১ রান। অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শান্ত। তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-২৩, তিন ম্যাচ খেলে তাদেরও পয়েন্ট সমান ৬। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে শুরুতেই কাঁপিয়ে দেন নেপালের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার পরশ। নিজের প্রথম দুই ওভারে তিনি ফেরান মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানকে। স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৬ রান। চতুর্থ উইকেটে ইয়াসির আলির সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় কিছুটা কাটিয়ে ওঠেন অধিনায়ক শান্ত। ১৪ রান করে অবিনাশ বোহারার বলে ইয়াসির ফিরলে ভাঙে জুটি। পঞ্চম উইকেটে সেরা জুটি পায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেনকে নিয়ে ৫৬ বলে স্কোরবোর্ডে ৯৪ রান যোগ করেন শান্ত। পাওয়ান সারাফকে ছক্কা মেরে ৪৫ বলে ফিফটিতে পৌঁছান শান্ত। অন্যপ্রান্তে আফিফ ছিলেন দারুণ আগ্রাসী। তার দুই চার ও এক ছক্কায় বোহারার এক ওভার থেকেই আসে ২০ রান। কারান কেসির বলে নেওয়া ডাবলে মাত্র ২৫ বলে ফিফটি তুলে নেন এই অলরাউন্ডার।
শেষ ওভারে দীপেন্দ্র সিং আইরির বলে আউট হওয়ার আগে ২৮ বলে ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৫২ রান করেন আফিফ। ৬০ বলে চারটি করে চার ও ছক্কায় শান্ত অপরাজিত থাকেন ৭৫ রানে। ৪ ওভারে ১৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে নেপালের সফলতম বোলার খাড়কা। রান তাড়ায় নেপাল ১৪ রানের মধ্যে হারায় ৩ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম টানা দুই বলে তুলে নেন পরশ ও পাওয়ানকে। পরের ওভারে পেসার সুমন খান ফেরান আরিফ শেখকে। একপ্রান্ত আগলে ছিলেন অধিনায়ক জ্ঞানেন্দ্র মাল্লা। চতুর্থ উইকেটে আইরির সাথে ৩২ ও পঞ্চম উইকেটে রোহিত পাউদেলের সাথে ২০ রানের জুটিতে দলকে টানেন তিনি। তবে রান তোলার গতি ছিল বেশ শ্লথ। ১৬ রান করে সৌম্যর বলে আউট হন আইরি। টানা দুই ওভারে রোহিত ও বিনোদ ভান্ডারিকে ফেরান মেহেদি হাসান। কারান কেসি ও সুশান ভারিও দ্রুত ফিরলে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে যায় নেপাল। ৪৩ বলে তিনটি চার ও এক ছক্কায় ৪৩ রান করে সৌম্যর বলে আউট হন জ্ঞানেন্দ্র। তানভীর ও মেহেদির পাশাপাশি দুটি করে উইকেট পেয়েছেন সৌম্য এবং সুমন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্ত।
আজ শ্রীলংকার বিপক্ষে লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩: ২০ ওভারে ১৫৫/৬ (নাঈম শেখ ৬, সৌম্য ৬, শান্ত ৭৫*, সাইফ ০, ইয়াসির ১৪, আফিফ ৫২, অঙ্কন ০, মেহেদি ০*; কারান ৪-০-৩০-০, খাড়কা ৪-০-১৫-৩, সারাফ ৩-০-৩২-০, বোহারা ৩-০-৩০-১, ভারি ২-০-১৫-০, আইরি ৪-০-৩১-২)
নেপাল: ২০ ওভারে ১১১/৯ (খাড়কা ৯, মাল্লা ৪৩, সারাফ ০, আরিফ ০, আইরি ১৬, পাউদেল ৮, ভান্ডারি ৩, কারান ১, ভারি ২, বোহারা ১৩*, রাজবংশী ৫*; হাসান ৪-০-১৯-০, সুমন ৪-১-২১-২, তানভীর ৪-০-২০-২, সৌম্য ৪-০-২০-২, মেহেদি ৪-০-৩০-২)

x