নুসরাত হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
38

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি
নুসরাত জাহান রাফি ধর্ষণ ও আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ১৩ এপ্রিল ১০টায় প্রবর্তক মোড়ে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ফারজানা পারভিন ও ফারহানা জাবেদ, চটগ্রাম জেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রেহেনা বেগম চেীধূরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক লাইলুন নাহার , পার্কে‘র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নজরুল ইসলাম মান্না, উৎস’র নির্বাহী মোস্তফা কামাল যাত্রা, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল চট্টগ্রাম জেলার জাফর ইকবাল, নূরী আকবর চেীধূরী,মুনমুন গুলশান, বনফুল সমাজ কল্যাণমূলক সংস্থার পরিচালক মিজানুর রহমান, ভোরের আলো’র পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতি নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই । নুসরাত জাহান রাফিকে ধর্ষকনারী ও হত্যাকান্ডে যারা জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি রাষ্ট্রকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় সমাজ থেকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘৃন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যতই ক্ষমতাবান ও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন সরকারের এখানে জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিবাদী নুসরাত জাহানকে আমরা হারিয়েছি কিন্তু তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের হাতিয়ার হিসেবে ধারন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, কখনও কখনও নারীর উপর নিপীড়ন হলে উল্টো ওই নারীর চালচলন বা পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই সমাজেরই বিশেষ একটি অংশ। জানিনা এখন তারা কি বলবে, যথেষ্ট পর্দানশীল হওয়া সত্ত্বেও নরপশুদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি নুসরাত। বাংলাদেশের আইনের ফাক দিয়ে অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেই একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, রাষ্ট্রকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে মাদ্রাসা গুলোতে সরকারের নজরদারি আরো কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোন নুসরাতকে এত নির্মমভাবে পৃথিবী ছাড়তে না হয়।
মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন বনফুল সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ঘাসফুল, পার্ক, ইলমা, উৎস, বিটা, ওয়াচ, ভোরের আলো, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল, চট্টগ্রাম জেলা, বাকলিয়া নারী কল্যাণ পরিষদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেক্টনিঙ মিডিয়া এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মহানগর উত্তর ছাত্রসেনা :
ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সহ সভাপতি মাওলানা আব্দুন নবী আলকাদেরী বলেছেন, মাদ্‌রাসা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আলাদা আবেগ অনুভূতি আছে। মানুষ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অধিকতর নিরাপদ মনে করেই মাদরাসায় সন্তানদের পাঠায়। কিন্তু মাদরাসায় অধ্যক্ষ কর্তৃক কোন শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে প্রতিকার চাওয়ার পর হত্যার শিকার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি সরকারের কাছে নুসরাত রাফি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। ১১ এপ্রিল সকালে নগরীর বহদ্দারহাট রোডে ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের উদ্যোগে ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যাকারী অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ জড়িতদেও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ছাত্রসেনা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মাছুমুর রশীদ কাদেরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। মুহাম্মদ এরশাদুল করিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এইচ এম এনামুল হক, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, কাজী মুহাম্মদ আরাফাত, মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, মুহাম্মদ নাঈম।
মহানগর দক্ষিণ ছাত্রসেনা
সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্‌রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে মানববন্ধন সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রসেনা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি রেজাউল করিম ইয়াসিন। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি জিএম শাহাদাত হোসেন মানিক। উদ্বোধক ছিলেন ইসলামী ছাত্রসেনা মহানগরের সাবেক সভাপতি মাওলানা নুরুল্লাহ রায়হান খান। বিশেষ বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমগীর ইসলাম বঈদী, যুবসেনা কোতোয়ালী থানার সভাপতি আবু তৈয়ব চৌধুরী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
মানবাধিকার কমিশন
মানবাধিকার কমিশন বৃহত্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখা ও চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের নির্বাহী সভাপতি শফিউল আলম রানার সভাপতিত্বে ১২ এপ্রিল সকালে নগরীর চেরাগী পাহাড় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু। সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান উল্লাহ বাহারের সঞ্চালনায় এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন আসাদুজ্জামান খান, শাহাদাত ইবনে মাজেজ, ইঞ্জিনিয়ার নুরুজ্জামান, মাসুদ পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইমরান, ইমদাদ চৌধুরী, হাজী চান্দু মিয়া, ডাঃ দিপক বড়ুয়া, সুদর্শন মন্টি, আবদুল হালিম, মাকসুদুর রহমান, ইসমাঈল হোসেন শিমুল, বখতেয়ার উদ্দিন, ইমতিয়াজ হোসেন, মো: আলমগীর, মো: জাহাঙ্গীর, জান্নাতুল ফেরদৌস লাকি, সুমাইয়া জেনি, কাউছার জাহান, সত্যজিৎ বড়ুয়া, এনাম হোসেন হীরু, কামরুল ইসলাম মানিক।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি আমিনুল হক বাবু বলেন, নুসরাত চিরঞ্জীব। প্রতিবাদের প্রতীক। চেতনার মশাল। অপরাধী সিরাজ উদ দৌলা শিক্ষক নামের কলঙ্ক। বক্তারা অধ্যক্ষ সিরাজকে আশ্রয় প্রশ্রয়দানকারী এবং তার পক্ষে মানববন্ধনের মদদদাতাসহ সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। খবর বিজ্ঞপ্তির।

x