নীলাঞ্জন বিদ্যুৎ এর কবিতা

শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:২০ পূর্বাহ্ণ
11

নদী ও মানুষ

নদীও মানুষের মত। আছে
তার প্রাণের প্রবাহ।

আমাদের চোখের নিচে ঘুমন্ত মেঘনা
হৃদয়ে যমুনার সম্মোহন, শিয়রে
তিতাসের উচ্ছ্বাস, ফুৎকারে কর্ণফুলী।
গোড়ালী ছুঁয়ে নিঃশব্দে বয়ে যায়
করতোয়া। আর ভেঙে যায় প্রতিদিন
বাসনার মত শঙ্খের ঢেউগুলি।

নদীর তরঙ্গের মধ্যে মানুষের ক্রোধ
পলিময় স্নিগ্ধতায় দোল খায় বিশ্বাস।
শীর্ণতোয়ায় অভিমান। মাছ আর শ্যাওলার
জলজ সংসারে মানুষের সামাজিকতা, ছলাৎ
ছলাৎ ধ্বনিপুঞ্জে মানুষের সোচ্চার কণ্ঠ।

আজ বিষাক্ত বল্লমে বিদ্ধ
সেই তন্বী নদীর শরীর আর
নদীমুগ্ধ অসংখ্য মানব-হৃদয়!

প্রাপ্তির পঙ্ক থেকে

সব কিছু বলতে হবে কেন
কিছু কিছু না-বলাও ভালো
ঠোঁট জুড়ে যখনই অই ঝর্ণা
স্তব্ধতা তখনই চমকালো।

চেয়ে দেখো পাহাড়ের চূড়ো
ছুঁয়ে আছে নীলের আকাশ
যত কাছে ঠিক তত দূরে
মরিচিকা আপন উদ্ভাস।

সব কিছু জানতে হবে কেন
কিছু কিছু অজানাই থাক
শীতের বলয় জুড়ে আনো
প্রাণময় কোকিলের ডাক।

থোকা থোকা রাতের শরীর
ফোটে বুনো চাঁদের উল্লাসে
তোমার তুমুল আত্মরতি
আমি কেঁপে কেঁপে উঠি ত্রাসে।

সব কিছু পেতে হবে কেন
কিছু কিছু না-পাওয়াও সুখ
প্রাপ্তির এ-পঙ্ক থেকে আজ
নির্দ্বিধায় তুলে নিই মুখ।

যদি কোনো দিন

যদি কোনোদিন তোমার সঙ্গে
আমার দেখা হয়
অসম্ভবকে দিব্যি তুড়ি মেরে
হয়তো বা দেখা হয়েই গেল!
সেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মুহূর্তে আমি কি
পাঠোদ্ধার করতে পারবো তোমার
চোখের অই রহস্যময় শিলালিপির,
নির্ণয় করতে পারবো ঠোঁটের কি রঙ
প্রতিটি নিঃশ্বাসের কেমন গূঢ় আয়োজন ?

তোমার ঘ্রাণে কখনো বিবশ আমি।
কিন্তু তোমাকে দেখি নি কস্মিন কালেও;
তুমি যেন সুগন্ধী সাবান, এতদিন মোড়কে
আবৃত রেখেছো নিজেকে।

তোমার সঙ্গে সত্যিই যদি দেখা হয়
জলের দেবতার কাছে চাইবো বৃষ্টি।

বৃষ্টির মাদকতায় কোন
কৃত্রিমতা থাকে না।

x