নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়েছে পিলার-দেয়াল-ব্লক

বান্দরবানে এলজিইডির সড়ক নির্মাণ কাজে দুর্নীতি

বান্দরবান প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

বান্দরবানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

কুদুখোলা-ভাগ্যকূল সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভাগ্যকূল বাজার এলাকায় সড়কের প্রটেকশন পিলার সহ দেয়ালের একটি অংশ খালে ধসে পড়েছে। সড়ক রক্ষায় ব্যবহৃত ব্লকের একটি অংশ ধসে পড়েছে খালের পানিতে। নির্মাণ কাজে ত্রুটি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন এবং ফাটল তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে উঠে গেছে সড়কের কার্পেটিংও।

এলজিইডি বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে গত বছরের শেষের দিকে পাঁচটি প্যাকেজের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তার মধ্যে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৬১ হাজার টাকায় তৃতীয় প্যাকেজের কার্যাদেশ পায় ইউটিমং লাইসেন্স।

পাহাড়ি লাইসেন্সে উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়ন করছেন আওয়ামী লীগের পৌরশাখা কমিটির সভাপতি ঠিকাদার অমল কান্তি দাস।

প্যাকেজের অধিকাংশ কাজই ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজের বিপরীতে ঠিকাদার ইতিমধ্যে ৬০% বিলও উত্তোলন করে নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে কিন্তু নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ না হতেই নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজে ত্রুটি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ভাগ্যকূল বাজার এলাকায় খালের মধ্যে ধসে পড়েছে সড়কের প্রটেকশন পিলার এবং দেয়ালের একটি বড় অংশ। সড়ক রক্ষায় ব্যবহৃত ব্লকের একটি অংশও ধসে পড়েছে খালের ভিতরে।

ভাঙ্গন রোধে ব্যবহারের জন্য মজুদ করে রাখা নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করে তৈরি করা আরসিসি অসংখ্য ব্লকও ধসে পড়েছে খালের পানিতে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের উঠে যাওয়া কার্পেটিং মেরামত করা হচ্ছে। ফাটল দেখা দেয়া এমন স্থানগুলোতে ড্রামশিট এবং গাছের বল্লি কুপে মাটি ফেলে সড়ক রক্ষার কাজ করা হচ্ছে।

ভাগ্যকূল বাজার এলাকায় সড়ক রক্ষায় নেয়া প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। আরসিসি পিলার এবং ব্রিকস ওয়াল ধসে পড়েছে খালে। আরসিসি ব্লকগুলোও ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে খালের মধ্যে।

খালের ভাঙ্গনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বাজারের পার্শ্ববর্তী সেতুটিও। সেতুর দু’পাশেই কয়েকটি স্থানে মাটি সরে গেছে। তবে সড়কটি রক্ষায় নতুনভাবে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করে অর্থের বরাদ্দ চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ধসে পড়া সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তথ্য চাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এলজিইডি বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী দু’জন একে-অপরকে দেখিয়ে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।

ভাগ্যকূলের বাসিন্দা নূর আলম, তাজুল ইসলাম সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, এলজিইডি বিভাগের উন্নয়ন কাজের মান কমেগেছে। সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি করা হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজসে। নির্মাণ কাজে ত্রুটি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ আগেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন এবং ফাটল তৈরি হয়েছে। বাজার এলাকায় সড়ক রক্ষায় নির্মিত দেয়াল, পিলার এবং খালের পাড়ে বসানো ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। সড়কের অনেক স্থানে উঠে গেছে সড়কের কার্পেটিংও।

নির্মাণ কাজের ঠিকাদার অমল কান্তি দাস বলেন, ‘নির্মাণ কাজে আমি কখনোই অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ নিই না। অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করি।‘

এ বিষয়ে এলজিইডি বান্দরবানের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘কাজে কোনো ত্রুটি ছিল না। খালের পানিতে ধসে গেছে কয়েকটি পিলার আর দেয়াল। সড়ক রক্ষায় ব্লক তৈরি করা হলেও সবগুলো বসানো হয়নি। কাজটি এখনো চলমান রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ কাজগুলো মেরামত করে দিচ্ছে ঠিকাদার। সড়কটি রক্ষায় প্রকল্পটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সম্প্রসারণ প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নতুন পদ্ধতিতে টেকসই কাজ করা হবে।’

x