নিরাপদ সড়ক দিবস ও প্রাসংগিক কথা

সোমবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
12

প্রতি বছর ২২ অক্টোবর পালিত হয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এর গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার ২০১৭ সালের ৫ জুন মন্ত্রী পরিষদের সভায় ২২ অক্টোবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর থেকেই নানা স্লোগানে দিনটি ‘জাতীয় নিরাপদ’ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করাই দিবসটি পালনের মূল লক্ষ। অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর থেকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। সে থেকে তার সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে ২৪ বছরের আন্দোলনের ফলাফল ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের স্বীকৃতি অর্জন। নিসচার সামাজিক আন্দোলন প্রশংসারযোগ্য। একথা সত্য যে, যেসব পরিবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারায় তারাই জানে ‘স্বজন হারানোর বেদনা কত নির্মম কতটা কঠিন। দুর্ঘটনার কারণে কত পরিবার নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়ে তার খবর কে রাখে। আমাদের দেশে যতগুলো সমস্যা বিদ্যমান তার মধ্যে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। দিনের পর দিন যে হারে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে সে তুলনায় তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা অপ্রতুল। বেশ কয়েক বছর আগে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামে স্কুল পড়ুয়া শিশুরা মারা গিয়েছিল যে শোকে পুরো দেশ মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। সরকারি নীতি নির্ধারকরা তখন কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু সে ঘোষণার সুফল দেশ বা জাতি আজো দেখতে পায়নি। সে ড্রাইভারের অবহেলার কারণে কোমলমতি শিশুদের তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছিল সেই ড্রাইভারের কোন শাস্তি হয়েছে কি? হয়নি। নিকট অতীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরি ডুবিতে কয়েকশ মানুষ মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। আমাদের দেশে এমন নজির কি ভাবা যায়! আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পদত্যাগ করুক এটা বলছি না। অন্তত: দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিক এইটুকু তো আমরা আশা করতেই পারি। সরকার ইচ্ছে করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ফুটপাত দখল, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, ওভার টেকিং, ওভার স্পিড ও ওভার লোড, গাড়ির ত্রুটি, ট্রাফিক আইন না মানা চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার করা প্রভৃতি দায়ী। অদক্ষ অবৈধ চালকের বেপরোয়া যান চালনায় মানুষের অহরহ মৃত্যু ঘটছে। অশিক্ষিত চালকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে লাখ লাখ যানবাহন। তাদের হাতে যাত্রীর মৃত্যু হলে তাকে হত্যা বা মানুষ হত্যা বলা হবে না কেন? যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে সে পরিবারটি কি অবস্থায় রয়েছে তার খবর ক’জনে রাখে? সড়ক দুর্ঘটনায় কি শুধু একটি পরিবারেরই ক্ষতি হয় নাকি দেশ ও অর্থনীতিরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়? এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহল যত দ্রুত অনুধাবন করতে পারবে ততই মঙ্গল হবে। প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র এ দায় এড়াতে পারে না। তাই, প্রতিটি দুর্ঘটনায় যথাযথ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও দরকার।
এম এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x