নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আরো শক্তিশালী করতে হবে

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারের খাবার হোটেল, মিষ্টির দোকান ও চায়ের দোকানগুলোতে ভেজাল বিষাক্ত পচা-বাসি খাবার অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে বলে আজাদীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে। এতে করে একদিকে যেমন মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, অন্য দিকে বহুদিন যাবত ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি কম থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় হোটেল মালিক। অভিজাত এলাকার রেস্টুরেন্টের বাইরে যেভাবে চাকচিক্যে ভরা, ভেতরে ঢুকে তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিছুই পাওয়া যায় না। দেখা যায় ফ্রিজে পচা-বাসি খাবার, ফ্লোরে ময়লা, রান্নাঘরের পরিবেশ আরো খারাপ। অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশ আর পচা খাবার রাখার জন্য রেস্টুরেন্ট মালিককে বড় অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হলেও কাজ হয় না। চিকিৎসকরা বলছেন, বাসি খাবার খাওয়ার খুব সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হল ডায়ারিয়া। প্রতিদিন বাসি খাবার খাওয়ার ফলে পেটের ব্যথা সৃষ্টি হয়। মূলত এটি পেটে সৃষ্টি হওয়া গ্যাসের কারণে পেট ব্যথা হয়ে থাকে। তাঁরা বলেন, ফ্রিজে রাখা খাবার সাথে সাথে গরম করে খাওয়ার কারণে অনেক সময় পেট ব্যথা হয়ে থাকে।
গত ১০ জানুয়ারি দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পচা ও বাসি খাবার বিক্রির দায়ে নগরের কাজির দেউড়ি মোড়ে এক রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারটায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কাজীর দেউড়ি মোড়ের মল্লিকা ভবনের দোতলায় অভিজাত সেই রেস্টুরেন্টে অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আগের দিনের পচা ও বাসি খাবার বিক্রি হচ্ছে। এসময় ফ্রিজ খুলে দেখা যায় পলিথিন ও প্লাস্টিক বাটিতে সেখানে আগের দিনের রান্না করা স্টিমড রাইস, চিকেন ফ্রাই, মেয়াদোত্তীর্ণ ক্যানড মাশরুম ও সস রাখা। এখানে আগের দিনের খাবারগুলো আবার ফ্রাই করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হত। অভিযানে পচা খাবার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শুধু এই রেস্টুরেন্ট নয়, নগরীর অনেক রেস্টুরেন্টে বিক্রি হচ্ছে বাসি পচা খাবার।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এক গবেষণার তথ্যমতে, বাংলাদেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি খাবারে ভয়ংকর সব রাসায়নিক পদার্থ মিশানো হয়। যারা ভেজাল মেশায় তাদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং খাদ্যে ভেজালে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভেজাল রোধে সরকারকে আরো অনেক বেশি সচেষ্ট হতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে একজন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দিয়ে কখনই ভেজাল রোধ করা সম্ভব নয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের গতি বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সব পৌরসভা তথা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে যুক্ত করলে অতিদ্রুত ভেজালের বিরুদ্ধে উদ্যোগটি সফলতার মুখ দেখবে। সরকারি ও বেসরকারি যে সব সংস্থা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে তাদের সঙ্গে নাগরিক সমাজকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন।
যুক্তরাষ্ট্রে দূষিত ও ভেজাল খাদ্য রোধে এফডিএর মতো শক্তিশালী তদারক ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের শক্তিশালী তদারক ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করতে হবে। বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজটি পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকেই আরো শক্তিশালী করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মান নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিএসটি আইয়ের গবেষণা ও তদারকি আরো বাড়াতে হবে। দেশে খাদ্যপণ্যের বাজার যেভাবে বিকশিত হচ্ছে, সেভাবে বিএসটি আইয়ের সক্ষমতা বাড়ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত রাখতে হবে।

x