নিভৃত পল্লীতে চলছে এখন শীতের প্রস্তুতি

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
14

দিনের বেলায় যেমন-তেমন, ভোরের কুয়াশা ও রাতে শীত শীত অনুভূতিই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আর এ শীতকে মোকাবেলার জন্য এখন বোয়ালখালীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে এখানকার গ্রাম অঞ্চলে এ প্রস্তুতি চোখে পড়ার মত। এখন দিন -রাত সমানতালে লেপ তোষক ও কাঁথা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার লেপ-তোষক কারিগর থেকে আরম্ভ করে গ্রামের বৌ-ঝিরাও। কেউ কেউ আবার পুরানো শীতবস্ত্র ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার নতুন করে লেপ-তোষক বানিয়ে নিচ্ছেন। মফস্বলের নিম্নআয়ের মানুষের শীত নিবারণের প্রধান অবলম্বন কাঁথা। অনেক পরিবারের নারী সদস্যরা এখন পরিবারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কাঁথা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি রাতে গ্রামের বধূরা হারিকেন জ্বালিয়ে সেই আলোতে তৈরি করছেন লেপ-তোষক। উপজেলার হাট-বাজার ও মার্কেটগুলোর কাপড়ের দোকানে বেড়েছে ভিড়, গরম কাপড় কেনা বেচা হচ্ছে প্রচুর।
নিম্নবিত্তরা শীত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের মহিলাদের তৈরি মোটা কাপড়ের কাঁথার দিকে ঝুঁকছে বেশি করে। তাই গ্রামের মহিলারা নকশীকাঁথা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে এখন। আবার অনেক সৌখিন বিত্তশালীরা গ্রামের মহিলাদের টাকা দিয়ে তাদের মনের মত করে নকশী কাঁথা তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন। তবে এবারের শীতের শুরুতেই গরম কাপড় ও লেপ তোষকের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে এলাকাবাসীর কথা থেকেই আঁচ করা গেছে। উপজেলার খরনদ্বীপ মুন্সিপাড়া গ্রামের বিধবা আনোয়ারী বেগম জানান- লেপের দোকানে গিয়েছিলাম, দাম বেশি চাওয়ায় নিজের বাড়িতে লাল কাপড়, তুলা, সুই-সুতা দিয়ে লেপ তৈরির কাজ করছি। জৈষ্ঠপুরা আবাসন প্রকল্পের ভূমিহীন আবদুল খালেক জানান-আমরা গরীব মানুষ, লেপ তৈরির জন্য ইরিধান কাটার কাজ করে টাকা সংগ্রহ করছি। দেখি লেপ তৈরি করতে পারি কি না। দক্ষিণপাড়ার দরিদ্র শতীষ চন্দ্র বলেন- লেপ কোথায় পাব, আমার স্ত্রী ছেঁড়া শাড়ি ও পুরাতন কাপড় দিয়ে কাঁথা তৈরি করছে। ওটা দিয়েই শীতটা পার করতে হবে। উপজেলা সদর বাজারের লেপ তোষক কারিগর বাদশা জানান, শীত আগমনের শুরু থেকেই ব্যাপক অর্ডার পাচ্ছি। ফলে এখন ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে আমাদের। ১টি লেপের মজুরি অবস্থাভেদে ৩শ থেকে ৪শ টাকা । তোষক ২শ থেকে ৩শ টাকা। আর ১টি তুলার লেপ ১হাজার টাকা থেকে ৩হাজার ও তোষক ১হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান- সামনে হিমেল হাওয়া ও শীত যতই বাড়বে বিক্রি ততই বেড়ে যাবে। গতবছরের চেয়ে এবছরে কাপড় ও তুলার দাম একটু বেশি। লেপ ব্যবসায়ী মাহাতাব হোসেন জানান, পৈত্রিক সূত্রে তার এই ব্যবসায় আসা। শীতের এই সময়টিতে তাদের আয়- রোজগারটা ভাল হয়। সাধারণত কার্তিক মাসের শুরু থেকেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বলে জানান তারা।

x